ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে পদত্যাগের দাবি ও ইউরোপীয় দেশগুলোর বয়কটের হুমকির মধ্যেই এবার তার বিরুদ্ধে এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে ‘বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের’ অভিযোগ উঠেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক থাকা এক নারীকে ছয় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিল উয়েফা। ওই নারী সে সময় ইনফান্তিনোর জুনিয়র সহকর্মী ছিলেন। পাশাপাশি তাকে আকর্ষণীয় পদোন্নতি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
ইনফান্তিনো অবশ্য এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অসত্য এবং ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনুপযুক্ত আচরণ বা নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ নেই। ফিফা ও উয়েফার কোনো কর্মীও কখনো তার আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
উয়েফা ওই নারীকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তার এমবিএ কোর্সের ফি পরিশোধেও অর্থটি ব্যবহার করা হয়েছিল। সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী অর্থ প্রদান বৈধ ছিল বলেও জানিয়েছে উয়েফা। তবে পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি এ ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করেছে।
ইনফান্তিনো বর্তমানে বিশ্বকাপের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন। বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়ে নিজের কিছু ‘ভুলের’ জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। তবে বুধবার মরক্কোতে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে সমর্থন পাওয়ার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেননি ৫৬ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা।
২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেওয়া ইনফান্তিনো ২০০৯ সালে সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১৬ সালে তিনি ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হন।
বিশ্বকাপের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল হলেও ইউরোপের কয়েকটি দেশ এখনও ফিফার বিভিন্ন আয়োজন বয়কটের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন কাফ, মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
সময়ের আলো/এমকে