গড়পড়তা ধারার বাইরে সবসময়ই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। জীবনের নানা গভীর বোধ, চেনা সমাজের প্রতিচ্ছবি এবং মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে তিনি সাহিত্য বা বাস্তবধর্মী চিত্রনাট্য প্রাধান্য দেন। সেই ধারাবাহিকতায় সাহিত্যনির্ভর গল্পের নায়িকা হয়ে হাজির হয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এনটিভিতে প্রচার শুরু হয়েছে দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটক ‘চাওয়া পাওয়া’। আবুল বাশারের ‘পবিত্র অসুখ’ উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে এটি পরিচালনা করেছেন রাকেশ বসু। এর নাট্যরূপ দিয়েছেন মনসুর রহমান চঞ্চল।
নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন মম আহমেদ চরিত্রে। যিনি আবৃত্তি ভালো পারেন এবং আগে থেকেই কবি হাসান আরিফের কবিতার ভক্ত। গল্পে মম থিয়েটার সংগঠক জামিল হোসেনের বাগ্দত্তা, পাশাপাশি জামিলের থিয়েটার দলের একজন অভিনেত্রীও তিনি। জামিলের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রেই এক দিন কবি হাসানের সঙ্গে দেখা হয় মমের।
এরপর হাসানের প্রতি মমর টান টের পেয়ে জামিল তড়িঘড়ি করে তাকে বিয়ে করে ফেলেন, আর সেখান থেকেই গল্পে তৈরি হয় নতুন এক মোড়। মম বলেন, এই ধারাবাহিকটি মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসা, সংকট, স্বপ্ন আর বাস্তবতার গল্প। গল্পের সঙ্গে দর্শক নিজেদের জীবনের অনেক মিল খুঁজে পাবেন।
সাহিত্যনির্ভর গল্পে কাজ প্রসঙ্গে মম বলেন, সাহিত্যভিত্তিক গল্পে কাজ করতে আমি সবসময়ই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ সাহিত্য থেকে নির্মিত গল্পের একটা আলাদা গভীরতা ও শক্তি থাকে। সেখানে চরিত্রগুলো অনেক বেশি পরিণত, বাস্তবধর্মী এবং বহুস্তরীয় হয়। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এমন চরিত্র নিয়ে কাজের সুযোগ সবসময়ই উপভোগ করি।
আমার মনে হয়, সাহিত্য মানুষের জীবন, সম্পর্ক, ভালোবাসা, সংকট আর মানসিক দ্বন্দ্ব খুব সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে। ফলে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর জন্য চরিত্রটি বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনের অনেক সুযোগ থাকে। ‘চাওয়া পাওয়া’ নাটকের ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি অনুভব করেছি। গল্প ও চরিত্রের ভেতরে যে আবেগ ও মানবিকতা রয়েছে, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে।
নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও সুনাম রয়েছে মমর। ‘দারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমা দিয়ে ২০০৭ সালে শোবিজে পা রাখেন তিনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত একাধিক সিনেমা। এর মধ্যে ‘মাস্টার’ সিনেমাটি একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয়। প্রায় দুই বছর আগে শেষ করেছেন ‘দ্য রিমান্ড’ সিনেমার কাজ।
সময়ের আলো/এসএকে