আদালত পাড়া নিত্যনতুন ঘটনার জন্ম দেয়। কারো বিষাদের জন্ম দেয়, আবার কেউ আনন্দ অশ্রু ঝরায়। তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে নওগাঁ আদালত পাড়ায়। ১৯ দিন পর নওগাঁ আদালতের মাধ্যমে দুই বছরের শিশু লামিয়া ফিরে গেলে তার মায়ের কাছে। মায়ের কোল ফিরে পেয়ে শিশুর হাসি যেন বলে দেয়, আমি আমার স্বর্গ খুঁজে পেয়েছি। পৃথিবীর সমস্ত সুখ যেন তার এই এক চিলতে হাসিতে লুকিয়ে আছে। মায়ের কোলে গিয়ে তার সব ভয় ও শঙ্কা দূর হয়ে গেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁর (মান্দা) আমলি আদালত ২-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালমান আহমেদ শুভর আদালতে শিশুকে ফিরে পায় তার মা চাঁদনী খাতুন।
আদালতের মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তারিখে নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাসেল মাহমুদ (২৭) এর সাথে পারিবারিক ভাবে একই উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ভারশোঁ গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে চাঁদনী খাতুন (২২) এর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ঘর সাজিয়ে দিতে জামাইকে প্রায় দেড় লাখ টাকার সাংসারিক জিনিসপত্র উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে দুই বছরের এক মেয়ে লামিয়া রয়েছে।
বিয়ের পর থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে চাঁদনী খাতুনকে বিভিন্ন সময় স্বামী রাসেল মাহমুদ ও শ্বশুর-শাশুড়ি অত্যাচার ও মারধর করে আসছিল। ভুক্তভোগী গৃহবধূ ঘর-সংসার করার জন্য স্বামীর সব অত্যাচার নীরবে সহ্য করছিল। গত ২০ জুলাই আবারো যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূকে মারধর করা হয় এবং লোহার রড আগুনে গরম করে তার ডান হাতে জখম করা হয়। তার শিশু সন্তানকে কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে গৃহবধূর বাবার বাড়ি চলে আসেন।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর মেয়ের বাবা চাঁন মিয়া ঘর-সংসার করার জন্য জামাই এর পরিবারকে আসার জন্য অনুরোধ করেন। এরপর রাসেল মাহমুদ তার বাবা-মা সহ কয়েকজন শ্বশুর বাড়ি আসেন। কিন্তু ২ লাখ টাকা ছাড়া সংসার করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন রাসেল মাহমুদ। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে গৃহবধূকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে শ্বশুর বাড়ি থেকে চলে যান রাসেল মাহমুদ। এরপর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ মান্দা থানায় মামলা করার জন্য গেলে থানা থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর গত ৩০ জুলাই স্বামীর বিরুদ্ধে মান্দা আমলি আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন গৃহবধূ চাঁদনী খাতুন।
গৃহবধূ চাঁদনী খাতুন বলেন, গত ২০ জুলাই বাচ্চাকে স্বামীর পরিবার কেড়ে নিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কয়েকবার বাচ্চাকে নেওয়ার জন্য আমার বাবা-মা স্বামীর বাড়িতে গেলে তারা দেখা করতে দেয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়। আজ সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে আদালতে আসি। আদালতের কাঠগড়ায় উঠার আগ পর্যন্ত বাচ্চার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। দীর্ঘ ১৯ দিন পর আদালতের মাধ্যমে দুপুর ১ টার দিকে বাচ্চাকে ফিরে পেলাম। তবে আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। কিন্তু যৌতুকের কারণে হয়ত তা সম্ভব হবে না। বাবা-মা গরীব মানুষ। এতো টাকা দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না।
মান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাকিরুল ইসলাম (জাকির) বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার সত্যতা পেলে আসামিকে আটক করা হবে।
সময়ের আলো/আতা