ডেঙ্গু হলে রোগী ও স্বজনদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম ‘প্লাটিলেট’। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলেই অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই প্লাটিলেট সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে যাওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয়। শুধু সংখ্যা দেখে নয়, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্লাটিলেট হলো রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ডেঙ্গু ভাইরাস অস্থিমজ্জায় প্লাটিলেট তৈরির প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ফলে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যায়। তবে কমে গেলেই যে রক্তক্ষরণ শুরু হবে বা রোগীর অবস্থা সংকটজনক হবে, এমনটি নয়।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. নির্ণয় পাল বলেন, ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা নয়, রক্তচাপ, পালস, প্রস্রাবের পরিমাণ, রক্তক্ষরণের লক্ষণ এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অযথা বারবার প্লাটিলেট পরীক্ষা করানো কিংবা শুধু সংখ্যা কমেছে বলে প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। যদি রোগীর শরীরে রক্তক্ষরণ না থাকে এবং চিকিৎসক প্রয়োজন মনে না করেন, তা হলে প্লাটিলেট না দিয়েও অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।
কখন প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে?
প্লাটিলেটের সংখ্যা খুব কমে যাওয়ার পাশাপাশি যদি নাক, মাড়ি, প্রস্রাব বা পায়খানার সঙ্গে রক্তপাত, ত্বকে ব্যাপক রক্তক্ষরণের দাগ বা অন্যান্য গুরুতর রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দেয়, তখন চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশন প্রয়োজন হতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে কি প্লাটিলেট বাড়ে?
পেঁপে পাতার রস, ডাবের পানি বা বিভিন্ন ভেষজ উপাদান প্লাটিলেট দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, এমন দাবির পক্ষে এখনও শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই রোগীকে দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে।
প্লাটিলেট কোথায় পাওয়া যায়?
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক এবং বিশেষায়িত রক্তসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসকের চাহিদাপত্র (রক্তের রিকুইজিশন) অনুযায়ী প্লাটিলেট সংগ্রহ করা যায়।
এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রক্তদাতা নেটওয়ার্কও জরুরি সময়ে উপযুক্ত ডোনার খুঁজে পেতে সহায়তা করে। তবে প্লাটিলেট সংগ্রহ বা গ্রহণের সিদ্ধান্ত অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া প্লাটিলেট নেওয়া যেমন উপকার করে না, তেমনি অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ডেঙ্গুতে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা।
শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা নয়, রোগীর উপসর্গ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাবার গ্রহণ এবং সময়মতো চিকিৎসাই সুস্থতার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে