পাবনায় দীর্ঘদিন ধরে চড়া রয়েছে সবজির বাজার। নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম চড়া থাকলেও সম্প্রতি বেগুনের দাম সেঞ্চুরি (১০০ টাকা কেজি) পার করেছে। পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত গাজর ও টমেটো। বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য সবজি সাধারণ মানুষের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে চলে গেছে।
স্থানীয় ও বাইরে থেকে আসা বেশিরভাগ সবজি বর্তমানে ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে খুচরা বাজারে আলুর কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বৃষ্টি বা বর্ষার অজুহাতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি দরে।
বাজারে বর্তমানে দেশি ওল ও পটল ৮০ টাকা, শাক ৬০ টাকা এবং শীতের আগাম নতুন শিম ৫২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ধুন্দুল, চিচিঙ্গা, ঢ়েঁড়শ, ঝিঙে ও পেঁপে ৬০ টাকা, করলা ও কাঁকরোল ৮০ টাকা এবং লাউ ও চালকুমড়া প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকায় খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে বর্ষার কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই কিংবা বন্যায়ও দেশ ভেসে যায়নি। হাট-বাজারে গেলে চোখে পড়ে প্রচুর সবজির আমদানি। অথচ এর মধ্যেও সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী। পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে দামের ব্যবধান সাধারণ ক্রেতাদের চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন গতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জোরালো নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, কঠোর তদারকি করা হলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসতে পারে। পাশাপাশি সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্যের পণ্যের দোকান চালুর দাবিও জোরালো হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্রেতা কাজী বাবলা বলেন, দিনে দিনে সবজিসহ সব ধরনের পণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে পড়ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না। বাজার সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত, যার যেমন খুশি দামে পণ্য বিক্রি করছে। শহর থেকে গ্রাম—কোথাও সবজির কোনো ঘাটতি নেই, তবুও কেন এত দাম? মূলত মধ্যস্বত্বভোগী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছেন। প্রশাসন একটু কঠোর তদারকি করলেই বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।
গৃহিণী ইশরাত জাহান বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। প্রতিটি দ্রব্যের দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁচামরিচ আমদানির পরও দাম তিনশো টাকার ওপরে। সবজি ৭০-৮০ টাকার নিচে নেই বললেই চলে। বাজারে গেলে কোনো সবজির কমতি দেখা যায় না, অথচ দাম চড়া। একটি সিন্ডিকেট কিংবা মধ্যস্বত্বভোগী চক্র এর সঙ্গে জড়িত। তাই বাজার মনিটরিং খুব জরুরি।
বাজারের অব্যবস্থাপনা ও তদারকি প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পাবনার সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনি বলেন, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি নিয়ে আজই বাজারে অভিযানে নামব। অনেকেই আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। খুচরা ও পাইকারি বাজারে দামের কেমন পার্থক্য তৈরি হচ্ছে, সেটিও আমরা খতিয়ে দেখব। আমরা অবশ্যই বাজার মনিটরিং জোরালো করব।
পাবনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন ঢালী বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কাঁচামরিচসহ অন্যান্য পণ্যের দাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম মহোদয় ইতোমধ্যে বাজার তদারকির জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আজ থেকেই দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভোক্তা অধিকার ও পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান শুরু হবে। শুধু সদর উপজেলায় নয়, জেলার প্রতিটি স্থানে এই মনিটরিং চলবে। কেউ যাতে কৃত্রিম উপায়ে দাম বাড়িয়ে বাজার কারসাজি করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হবে। কারসাজির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই