দরজায় কড়া নাড়ছে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের তাসখন্দে বসবে বাছাইয়ের আসর। গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে যশোরের শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে আবাসিক ক্যাম্প করছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। এর মধ্যেই দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অস্বস্তি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বেতন ও বাংলাদেশে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন ইংলিশ কোচ। এর আগে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুললেও পরে অর্থ হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে বেতন পাওয়ার পরও নতুন কিছু জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার দাবি করেছেন জোন্স। কোচের অভিযোগ, তার ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য যেভাবে অন্যদের সঙ্গে আদান-প্রদান ও শেয়ার করা হয়েছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি ঢাকায় অবস্থানকালে রাস্তায় হয়রানির শিকার হওয়ারও দাবি করেন তিনি।
জোন্সের ভাষ্য, কিছু মানুষ তার গাড়ির কাছে এসে টাকা চেয়েছেন, গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছেন এবং কখনো গাড়ি ঘিরেও ধরেছেন। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে তার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন বলে জানান তিনি। এসব ঘটনায় নিজেকে ভীত, অসহায় ও একাকী মনে হচ্ছে বলে ভিডিও বার্তায় জানান জোন্স। পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকে কাজ করার মধ্যে এমন পরিস্থিতি তার জন্য মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
তবে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল কোচের বক্তব্যকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তার মতে, জেরার্ড পুরো ঘটনাটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের ভিত্তিতে বাফুফে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিরাপত্তা বা অন্য কোনো বিষয়ে সমস্যা থাকলে কোচকে সরাসরি ফেডারেশনকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি।
এর আগে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার জানিয়েছিলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১০ তারিখের মধ্যেই জোন্সের ব্যাংক হিসাবে বেতন পাঠানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে অর্থ পাঠাতে ব্যাংকিং ও আইনগত কিছু প্রক্রিয়া থাকায় সময় লাগছে।
এদিকে বাছাইপর্বে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারত। ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়া এবং ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। ফলে মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি কোচকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিও দ্রুত সামাল দেওয়াটা এখন বাফুফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে