আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ দুই পর্বত মাউন্ট মেরু ও মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো অভিযানে সফল হয়েছেন বাংলাদেশি দম্পতি জুনায়েদ সরকার ও মাহজাবিন আহমেদ। দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে দুই পর্বতের বিভিন্ন উচ্চতায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে দেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে যুক্ত করেছেন নতুন অভিজ্ঞতা।
তানজানিয়ার আরোশা ন্যাশনাল পার্কের মোমেল্লা গেট থেকে মাউন্ট মেরু অভিযানের মাধ্যমে তাদের এই পর্বতযাত্রা শুরু হয় ২৩ জুলাই। প্রথম দিন প্রায় ১০ কিলোমিটার ট্রেকিং করে তারা পৌঁছান ৮ হাজার ২৫০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মিরিয়াকাম্বা হাট ক্যাম্পে। সেখানে রাত কাটানোর পর পরদিন সকালে শুরু হয় আরও উঁচু পথে যাত্রা। প্রায় ১১ হাজার ৭১৫ ফুট উচ্চতার স্যাডল হাট ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে যান তারা।
অভিযানের একপর্যায়ে ১২ হাজার ৬৫০ ফুট উচ্চতার মাউন্ট লিটল মেরুর চূড়ায় আরোহণ করেন জুনায়েদ ও মাহজাবিন। সেখানে তারা বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
২৬ জুলাই মাউন্ট মেরু অভিযান শেষ করে নিচে নেমে আসেন তারা। তবে বিশ্রামের জন্য বেশি সময় পাননি। মাত্র এক দিন পর, ২৭ জুলাই শুরু করেন আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ। ২৭ জুলাই ৬ হাজার ৫৩৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কিলিমাঞ্জারো ন্যাশনাল পার্কের মারাঙ্গু গেটে পৌঁছান তারা। সেখান থেকে ঘন পাহাড়ি বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ ট্রেকিং। প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাত ৮টার দিকে তারা পৌঁছান ৮ হাজার ৯১০ ফুট উচ্চতার মান্দারা হাটে।
পরদিন ২৮ জুলাই আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয় তাদের। প্রায় ১৫ কিলোমিটার আলপাইন উচ্চভূমি অতিক্রম করে তারা পৌঁছান ১২ হাজার ২৮০ ফুট উচ্চতার হরম্বো হাটে।
২৯ জুলাই শরীরকে বেশি উচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অ্যাক্লিমাটাইজেশন হাইকে বের হন তারা। এ সময় ১৩ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতার জেব্রা রকে আরোহণ করেন জুনায়েদ ও মাহজাবিন। পরে আবার মান্দারা হাটে ফিরে রাতযাপন করেন। পরে ৩০ জুলাই সকালে কিলিমাঞ্জারোর শেষ ক্যাম্প কিবো হাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তারা। প্রায় ১৫ কিলোমিটার আলপাইন পার্বত্য মরুভূমির পথ অতিক্রম করে বিকেল ৩টার দিকে ১৫ হাজার ৫১০ ফুট উচ্চতার কিবো হাটে পৌঁছান।
এরপর শুরু হয় অভিযানের সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ চূড়ান্ত সামিট পুশ। ৩০ জুলাই রাত ১২টায় কিবো হাট থেকে শীর্ষে ওঠার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন এই দম্পতি।
দীর্ঘ রাতের কঠিন আরোহণ শেষে ৩১ জুলাই সকাল ৮টার দিকে তারা পৌঁছে যান মাউন্ট কিলিমাঞ্জারোর দক্ষিণ সামিট পয়েন্ট গিলম্যান পয়েন্টে।
সেখানে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে দেন তারা। আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতের উচ্চতায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর এই মুহূর্ত তাদের পুরো অভিযানের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন হয়ে থাকবে।
জুনায়েদ সরকার ও মাহজাবিন আহমেদ দুজনই বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ক্লাব বিএমটিসি ও অভিযাত্রীর সদস্য। পাশাপাশি তারা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোর ইশকুলেরও সদস্য।
দুই দুর্গম পর্বত অভিযানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি এই দম্পতি শুধু নিজেদের পর্বতারোহণের অভিজ্ঞতাই সমৃদ্ধ করেননি, একই সঙ্গে আফ্রিকার পর্বতশৃঙ্গে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাও তুলে ধরেছেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ