বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনব্যবস্থার ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গেলে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন দিয়ে আলোচনা শুরু করা যথেষ্ট নয়। এর প্রকৃত তাৎপর্য বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে- বিশেষত সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে, যেখানে ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন’ নামে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক ব্যবস্থা নির্ধারিত ছিল।
এই দ্বিতীয় তফসিল আজ আর সংবিধানের অংশ নয়। ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর ৩১ ধারার মাধ্যমে এটি বিলুপ্ত হয়। কিন্তু বিলুপ্ত হওয়ার আগে এতে যে নির্বাচনব্যবস্থা নির্ধারিত ছিল, তার মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচনি বৈধতা সম্পর্কে একটি বিশেষ সাংবিধানিক ধারণা প্রতিফলিত হয়েছিল- যা পরবর্তী ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
১৯৭২ : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল সংবিধান-নির্ধারিত
১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেবল একটি সাধারণ আইনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিল নিজেই নির্বাচন পরিচালনা, ভোটগ্রহণ ও ফল নির্ধারণের মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করেছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং সংসদ সদস্যদের সভায় নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগের বিধানও ছিল। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল সংসদ সদস্যদের ভোটদানের একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র নয়; এটি ছিল নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক নির্বাচন। তবে এই ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভোটের ফল নির্ধারণের পদ্ধতি। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের অধীনে দ্বিতীয় তফসিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত ১৫ ও ১৬ অনুচ্ছেদ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুচ্ছেদ ১৫-এ বলা হয়েছিল- ‘যদি তিন বা ততোধিক সংখ্যক প্রার্থী থাকেন, তাহা হইলে একজন প্রার্থী অবশিষ্ট প্রার্থীগণ কর্তৃক প্রাপ্ত সর্বমোট ভোট সংখ্যা অপেক্ষা অধিক ভোট পাইয়া থাকলে তিনি নির্বাচিত হইয়াছেন বলিয়া কমিশনার ঘোষণা করিবেন।’
অর্থাৎ তিন বা ততধিক প্রার্থী থাকলে প্রথম দফার ভোটেই একজন প্রার্থী তখনই নির্বাচিত ঘোষিত হবেন, যখন তার প্রাপ্ত ভোট অবশিষ্ট সব প্রার্থীর সম্মিলিত ভোটের চেয়ে বেশি হবে। এই শর্তটি প্রচলিত অর্থে শুধু ‘সর্বাধিক ভোট’ পাওয়ার নিয়ম ছিল না। আবার এটিকে সরাসরি সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ম বলাও সঠিক নয়। এটি ছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংবিধান নির্ধারিত একটি বিশেষ নির্বাচনি সীমা। আর এই শর্ত পূরণ না হলে অনুচ্ছেদ ১৬ প্রযোজ্য হতো। সেখানে বলা হয়েছিল- ‘যদি তিন বা ততোধিকসংখ্যক প্রার্থী থাকেন এবং অব্যবহিত পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদটি প্রযোজ্য না হয়, তাহা হইলে এই তফসিলে বর্ণিত পূর্ববর্তী বিধানাবলি অনুযায়ী পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হইবে এবং এই ভোটগ্রহণের সময়ে পূর্ববর্তী ভোটগ্রহণের ফলে যে প্রার্থী সর্বনিম্ন সংখ্যক ভোট লাভ করিয়াছিলেন, তাহাকে বাদ দেওয়া হইবে।’ অর্থাৎ ১৫ অনুচ্ছেদে নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে নির্বাচন থেমে যেত না।
১৬ অনুচ্ছেদ সেই অবস্থায় পুনরায় ভোটগ্রহণ এবং সর্বনিম্ন ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছিল। এরপর অবশিষ্ট প্রার্থীদের নিয়ে আবার ভোট হতো। এখানে ১৫ ও ১৬ অনুচ্ছেদের পারস্পরিক সম্পর্কটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করেছিল কখন একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা যাবে; আর ১৬ অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করেছিল সেই শর্ত পূরণ না হলে কীভাবে নির্বাচন পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাবে। ধরা যাক, তিনজন প্রার্থীর ভোটের ফল হলো ৪০ শতাংশ, ৩৫ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ। এখানে প্রথম প্রার্থী সর্বাধিক ভোট পেলেও তার ৪০ শতাংশ ভোট অবশিষ্ট দুই প্রার্থীর সম্মিলিত ৬০ শতাংশ ভোটের চেয়ে বেশি নয়। ফলে ১৫ অনুচ্ছেদের শর্ত পূরণ হয় না এবং ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বাদ দিয়ে পুনরায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়।
অর্থাৎ ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রথম দফায় সর্বাধিক ভোট পাওয়াকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চূড়ান্ত বিজয়ের ভিত্তি করেনি। বরং নির্ধারিত সাংবিধানিক শর্ত পূরণ না হলে নির্বাচনকে পরবর্তী দফায় নিয়ে গিয়ে সমর্থনকে আরও কেন্দ্রীভূত করার ব্যবস্থা করেছিল। এখানেই ১৫ ও ১৬ অনুচ্ছেদের গণতান্ত্রিক তাৎপর্য। নির্বাচনের লক্ষ্য শুধু অন্য প্রার্থীদের চেয়ে বেশি ভোট পাওয়া নয়; বরং এমন একটি নির্বাচনি ফলের দিকে অগ্রসর হওয়া, যেখানে একজন প্রার্থীর পক্ষে তুলনামূলকভাবে অধিকতর বিস্তৃত সমর্থন প্রতিষ্ঠিত হয়।
গণতন্ত্রের দুটি ধারণা :
প্লুরালিটি বনাম বৃহত্তর সম্মতি। এখানে গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক পার্থক্য প্রকাশ পায়। প্লুরালিটির দর্শন প্রশ্ন করে : কে সবচেয়ে বেশি ভোট পেল? আর ১৯৭২ সালের এই সাংবিধানিক পদ্ধতি আরও একটি প্রশ্ন সামনে আনে : কে এমন সমর্থন অর্জন করলেন, যার ভিত্তিতে তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলা যায়? এই পার্থক্যটি কেবল ভোটগণনার পদ্ধতির পার্থক্য নয়; এটি গণতান্ত্রিক বৈধতা নির্মাণের দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। একটি ধারণায় নির্বাচন মূলত বিজয়ী নির্বাচন করা- প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে যে সর্বাধিক ভোট পায়, সে বিজয়ী। অন্য ধারণায় নির্বাচন শুধু বিজয়ী নির্ধারণের প্রক্রিয়া নয়; এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতার দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি প্রক্রিয়া- সম্মতি তৈরি।
১৯৭২ সালের দ্বিতীয় তফসিলের ১৫ ও ১৬ অনুচ্ছেদকে এই দ্বিতীয় ধারণার একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। প্রথম দফায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে নির্বাচন থেমে যায়নি; সর্বনিম্ন ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বাদ দিয়ে পুনরায় ভোটের মাধ্যমে অবশিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে সমর্থনকে আরও কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি যেহেতু রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান, তার নির্বাচনি বৈধতার এই দিকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রপ্রধানের বৈধতা যত বিস্তৃত রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তার সাংবিধানিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিও তত শক্তিশালী হতে পারে।
১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দ্বিতীয় তফসিল বিলুপ্ত হয়। একই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি-শাসিত ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিও পরিবর্তিত হয়।
দ্বিতীয় তফসিল বিলুপ্তির বিষয়টি চতুর্থ সংশোধনীর ৩০ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে দ্বিতীয় তফসিলের বিলুপ্তি নিছক একটি সাংবিধানিক তফসিল বাতিলের ঘটনা ছিল না। এর সঙ্গে ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিস্তারিত সাংবিধানিক স্থাপত্যও বিলুপ্ত হয়।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি-শাসিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতার পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে পঁচাত্তরের পরিবর্তনকে শুধু নির্বাচনি পদ্ধতির পরিবর্তন হিসেবে দেখলে তার বৃহত্তর সাংবিধানিক তাৎপর্য ধরা পড়ে না।
১৯৯১ : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ফিরে এলো, কিন্তু দ্বিতীয় তফসিল ফিরল না
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসে। ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আবার সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার ব্যবস্থা ফিরে আসে। ১৯৯১ সালের পরোক্ষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনব্যবস্থার ভিত্তি বর্তমান সংবিধানের ৪৮(১)-এ প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু বাহাত্তর সালের সংবিধানে ৪৮ (১) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি দ্বিতীয় তফসিল বর্ণিত বিধানাবলি অনুযায়ী সংসদ সদস্যাগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।
চতুর্থ সংশোধনী তে ৪৮(১) : বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন যিনি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী নির্বাচিত হইবেন।
আর দ্বাদশ সংশোধনীতে ৪৮(১) : বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যাগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।
এই কাঠামোর ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ প্রণীত হয়। এখানেই ১৯৭২ ও ১৯৯১-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটি ধরা পড়ে। ১৯৭২ সালে সংবিধান নিজেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিস্তারিত সাংবিধানিক স্থাপত্য নির্মাণ করেছিল। ১৯৯১ সালে সংবিধান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করেছে, আর বিস্তারিত নির্বাচনপদ্ধতি আইননির্ভর হয়েছে। কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ফিরে এলেও ১৯৭২ সালের নির্বাচনি দর্শন কি ফিরে এসেছে? দ্বিতীয় তফসিল ফিরে আসেনি। ১৫ ও ১৬ অনুচ্ছেদের মতো প্রথম দফার ফল অতিক্রম করে পরবর্তী দফায় সমর্থনকে আরও কেন্দ্রীভূত করার সেই বিশেষ সাংবিধানিক ব্যবস্থা ফিরে আসেনি।
অতএব রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পুনঃপ্রবর্তন এবং ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা- দুটি এক বিষয় নয়। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল পরোক্ষ কিন্তু বিস্তারিতভাবে সংবিধান-নিয়ন্ত্রিত এবং প্রথম দফায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে পুনরায় ভোটের মাধ্যমে অবশিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে সমর্থনকে আরও কেন্দ্রীভূত করার ব্যবস্থা ছিল। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিও পরিবর্তিত হয় এবং রাষ্ট্রপতি-শাসিত ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে।
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি পুনরায় সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক ব্যবস্থা ফিরে আসে; কিন্তু ১৯৭২ সালের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিস্তারিত কাঠামো সংবিধানের তফসিলে সংরক্ষিত না থেকে তা আইননির্ভর হয়ে ওঠে।
সুতরাং তিনটি পর্যায়ের মধ্যে শুধু নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তনই নয়, রাষ্ট্রপতির গণতান্ত্রিক বৈধতা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে- সে সম্পর্কেও সাংবিধানিক চিন্তার পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়।
একটি নির্বাচন এমনও হতে পারে যেখানে লক্ষ্য কেবল বিজয়ী নির্ধারণ করা। আবার এমন নির্বাচনও হতে পারে যেখানে বিজয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতার দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।
সুতরাং ১৯৭২ সালের দ্বিতীয় তফসিলের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, সংবিধান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধু বিজয় নির্ধারণের একটি নিয়ম দেয়নি; বরং নির্বাচনি বৈধতা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে তারও একটি বিশেষ সাংবিধানিক কাঠামো নির্মাণ করেছিল। ১৯৭৫ সালে সেই সাংবিধানিক নকশা বিলুপ্ত হলো। ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ফিরে এলো। কিন্তু দ্বিতীয় তফসিল ফিরে এলো না। এই প্রশ্নের উত্তর শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাস বোঝার জন্য নয়; বাংলাদেশের সাংবিধানিক গণতন্ত্রের বিবর্তন বোঝার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, ১৯৭২ সালের দ্বিতীয় তফসিল আমাদের মনে করিয়ে দেয়- সংবিধান শুধু কে রাষ্ট্রপতি হবেন তা নির্ধারণ করে না; একজন রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচনি বৈধতা অর্জন করবেন, সেই বৈধতার কাঠামো কী হবে এবং নির্বাচন কীভাবে অধিকতর বিস্তৃত রাজনৈতিক সমর্থনের দিকে অগ্রসর হবে- সংবিধান চাইলে সেই দর্শনও নির্ধারণ করতে পারে।
গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি