প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতার অপূর্ব দৃশ্যে সেজে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের কলিযুগ বিল। সেখানে ফুটে থাকা শত শত সাদা পদ্মফুল দেখতে বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসছেন হাজারো মানুষ।
উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণে জাবরহাট ইউনিয়ন পরিষদের কলিযুগ গ্রামে অবস্থিত এই পদ্মবিল। ভোরের নরম আলো কিংবা বিকেলের সোনালি রোদে মৃদুমন্দ বাতাসে দুলতে থাকা সাদা পদ্মের সৌন্দর্য যে কাউকে বিমোহিত করছে।
ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় এখানে প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনা। পরিবার পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে তারা ভীড় জমান পদ্মবিলে। তবে, বিলটিতে প্রবেশ ও পদ্মফুল দেখার জন্য কাঠের সাঁকোই একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই পদ্মবিল এখন এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। তবে, দর্শনার্থীদের সচেতনতার পাশাপাশি এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বিলজুড়ে ফুটে থাকা সাদা পদ্ম। ছবি : সময়ের আলো
দর্শনার্থী আয়শা আক্তার জানান, তার বাড়ি কুমিল্লা শহরে। তিনি তার আত্মীয়ের বাড়ি পীরগঞ্জে বেড়াতে এসেছেন। সুযোগ পেয়ে পদ্মফুল দেখার জন্য এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘বিলে নৌকার ব্যবস্থা থাকলে আরও ভালো হতো।’
বিলে ঘুরতে আসা কলেজছাত্র নাসিমা আক্তার বলেন, ‘কলিযুগ পদ্মবিলের নাম অনেক শুনেছি। এসে দেখি খুবই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। আমরা ৩ বন্ধু মিলে ঘুরতে এসেছি। কিন্তু অনেক দর্শনার্থী বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে ফুল ছিঁড়ে ফেলে। এতে বিলের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।’
কলিযুগ গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রতেন বানিয়া বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পশ্চিম পাশে পদ্মবিল। এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসছে প্রতিনিয়ত। অনেকেই না বলে বাড়িতে ঢুকে পড়ছে, এতে আমরা বিব্রত হচ্ছি।’
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নাজমুল হাসান জানান, এটি জলজ উদ্ভিদ। পাখির দ্বারা পদ্ম ফুলের বীজ বিলে পড়ে গাছ জন্মায়। সেখান থেকেই পদ্ম গাছের বিস্তৃতি হয়। কলিযুগ পোরাবিল এবার পদ্ম ফুলে ছেয়ে গেছে। অনেক দর্শনার্থী এ বিলে আসছেন। বিলটি এখন একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের প্রভাষক ইমরুল হক জানান, পদ্ম ফুলের নানা ঔষধি গুণ রয়েছে। এক সময় আমাদের দেশে বিলে অনেক পদ্ম ফুল দেখা যেত। কিন্তু বিল ও জলাশয় ভরাটের ফলে এই ফুল এখন বিলুপ্তির পথে। পদ্ম ফুলের বিস্তার ঘটাতে এবং এই ফুলের গুরুত্ব বিবেচনায় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার জানান, প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই সাদা পদ্মফুল আমাদের এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসছে দেখে সত্যিই ভালোলাগছে। তবে দর্শনার্থীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন বিনোদন উপভোগ করার সময় পরিবেশ ও পদ্মফুলের কোনো ক্ষতি না করেন। স্থানীয় প্রশাসন এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ওই এলাকার পরিবেশ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নজরদারি রাখা হবে, যাতে এই প্রাকৃতিক সম্পদ অক্ষুণ্ন থাকে।