ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় ২০২৫ সালে ১৫৩ বেসামরিক নিহত : পেন্টাগন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় ২০২৫ সালে ইয়েমেনে ১৫৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ২৪৩ জন আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের এক

2026-08-13T08:39:26+00:00
2026-08-13T08:39:26+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় ২০২৫ সালে ১৫৩ বেসামরিক নিহত : পেন্টাগন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় ২০২৫ সালে ইয়েমেনে ১৫৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ২৪৩ জন আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের এক মূল্যায়নে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পেন্টাগনের পর্যালোচনায় ২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে নথিভুক্ত সব বেসামরিক হতাহতই এপ্রিলে ইয়েমেনে চালানো তিনটি হামলার ঘটনায় হয়েছে।

বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে পেন্টাগনের বার্ষিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে গোপনীয়তামুক্ত এই মূল্যায়নটি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে। এর আগে এনবিসি নিউজ এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) মূল্যায়নটির তথ্য হাতে পায়।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এপিকে বলেন, প্রতিবেদনটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে মাত্র দুজন বেসামরিক নিহত ও দুজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল পেন্টাগন।

২০২৫ সালের এপ্রিলে চালানো ওই তিনটি হামলার লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও এর আশপাশে হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থান এবং রাস ইসা জ্বালানি বন্দর।

এর মধ্যে রাস ইসা বন্দরে হামলাটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এতে ৮০ জন নিহত ও ১৭১ জন আহত হন। হামলার পর বন্দরে বিশাল অগ্নিগোলার সৃষ্টি হয় এবং জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।

তখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, হুথিদের জ্বালানি ও রাজস্বের একটি উৎস বন্ধ করাই ছিল হামলার উদ্দেশ্য। সংস্থাটি বলেছিল, ইয়েমেনের সাধারণ মানুষকে ক্ষতি করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

তবে পেন্টাগনের পর্যালোচনায় মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট ও অন্যান্য ছবি এবং উন্মুক্ত উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়, ওই তিন হামলায় ‘সম্ভবত বেসামরিক মানুষের ক্ষতি হয়েছে’।

পর্যালোচনায় নিহত ও আহতদের বা তাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণমূলক অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এদিকে ইয়েমেনে মার্কিন অভিযানে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ পাওয়ার পর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও ১৫টি ঘটনা পর্যালোচনা করছিল সেন্টকম।

২০২৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ইয়েমেনে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন অভিযান শুরু হয়।

হুথিরা বলেছিল, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি এবং ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে তারা এসব হামলা চালাচ্ছে।

২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ইয়েমেনে মার্কিন অভিযান আরও তীব্র হয়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, হুথিদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখাই এসব হামলার লক্ষ্য।

তবে পেন্টাগনের এই মূল্যায়নে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের চালানো নৌযানবিরোধী হামলায় হতাহতের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এসব হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন হামলার পর প্রকাশিত মার্কিন হিসাব থেকে জানা যায়।


সময়ের আলো/কেএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: