টানা ২ দিনের বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার স্বাভাবিক জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় খালের নাব্যসংকট, ভুলুয়া নদী খনন না হওয়া এবং প্রভাবশালী চক্রের তৈরি অবৈধ বাধার কারণে এই দুই উপজেলার প্রায় কয়েক লাখ মানুষ এখন জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদী ও খালের পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। রামগতি উপজেলার রামগতি বাজার, বিবির হাট বাজার, রামদয়াল বাজারের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো দীর্ঘদিন খনন না করায় পানি নামতে পারছে না। অন্যদিকে, কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ার হাট বাজারসংলগ্ন চর ঠিকা খাল ও চর লরেন্স বাজার খালসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খাল ভরাট হয়ে থাকায় জলাবদ্ধতা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখলদারিত্ব। অভিযোগ রয়েছে, ভুলুয়া নদীতে ‘নদী বেল’, ‘বিন্দী জাল’ ও ‘লোতর জাল’ বসিয়ে অবাধে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ একপ্রকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা রেদোয়ান হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ভুলুয়া নদীটি যদি সময়মতো খনন করা হতো, তাহলে আজ উপকূলীয় এই দুই উপজেলার মানুষকে এমন জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হতো না।’
ভুলুয়া নদীতে পানি চলাচলে বাধার সৃষ্টি এবং জনদুর্ভোগের বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাহাত উজ জামান বলেন, ‘ভুলুয়া নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ বা জাল দিয়ে কারা পানি চলাচল বন্ধ করেছে, তা আমি নিজে সরজমিনে গিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেব।’
একই বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন জানান, গত দুদিনে অনেক বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভুলুয়া নদীতে মাছ শিকারের জন্য যারা পানি যাতায়াত বন্ধ করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।
উদ্বিগ্ন উপকূলবাসী দ্রুত ভুলুয়া নদীসহ সংযোগ খালগুলো খনন এবং অবৈধ জাল-বাঁধ অপসারণ করে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জোরালো হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সময়ের আলো/মহু