সরকারি বিধি-বিধান তোয়াক্কা না করে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে হরিলুটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। দরপত্রের শর্ত ভেঙে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই বছর পর টাকা জমা নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি প্রদান এবং চিহ্নিত গাছের বাইরে অবাধে অতিরিক্ত গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, টেন্ডার বা লট বরাদ্দের ৫ দিনের মধ্যে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে পুরো টাকা জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে এবং পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে গাছ কেটে নেওয়ার কথা। তবে সে শর্ত অমান্য করে উপজেলার ফজুমিয়া হাট বাজার থেকে ওয়াবদা বেড়ীবাঁধ সড়কের ‘দরপত্র নং-১ রাজস্ব ২৫/২৬’-এর আওতায় গাছ বিক্রির পর দীর্ঘ সময় পর রহস্যজনকভাবে টাকা জমা নিয়ে কাটার অনুমতি দেওয়া হয়।
সরজমিনে দেখা গেছে, ঠিকাদারেরা নম্বর দেওয়া নির্ধারিত গাছের পাশাপাশি নম্বরবিহীন অসংখ্য গাছও কেটে নিয়ে যাচ্ছে। গাছের সংখ্যা ও লট নিয়েও চরম গরমিল সামনে এসেছে।
কমলনগর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি মাত্র ১ মাস আগে যোগদান করেছি। আগে কেন টাকা জমা দেওয়া হয়নি তা জানা নেই, তবে এখন ৫টি লটের টাকা পরিশোধ করায় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গাছ কাটার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সফিক ব্যাপারী দাবি করেন, তিনি ৭ মাস আগে টেন্ডার পেয়েছেন এবং ৬টি লটের টাকা পরিশোধ করেই গাছ কাটছেন। বন কর্মকর্তার ৫টি লট ও ঠিকাদারের ৬টি লটের অমিলকে গাছ লুটপাটের কৌশল বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বরিশাল) মোল্লা রেজাউল করিম জানান, টেন্ডারের এত দিন পর টাকা জমা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন