ভারত ও নেপালের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের মূলে রয়েছে ১৮১৬ সালের ঐতিহাসিক ‘সুগৌলি চুক্তি’। তবে ২১০ বছরের প্রাচীন এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক অস্বস্তিতে পড়েছে নেপাল সরকার। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নির্ধারণকারী সুগৌলি চুক্তির মূল নথি বা কপিটি সরকারের কাছে আদৌ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না কাঠমান্ডু।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'ইন্ডিয়া টুডে'-র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
সম্প্রতি লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখ অঞ্চলকে নিজেদের দাবি করে ভারতের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনায় জড়ায় নেপাল। কাঠমান্ডুর এই দাবির প্রধান আইনি ভিত্তি ছিল সুগৌলি চুক্তি। তবে চুক্তিটির মূল কপি উদ্ধারে নেপালের জাতীয় আর্কাইভ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জাদুঘরে পার্লামেন্টের নির্দেশে তল্লাশি চালিয়েও আসল নথির হদিস মেলেনি।
নেপালের প্রতিনিধি সভার এক বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খিনাল সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি এবং ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তির অনুলিপি বা ফটোকপি তাদের কাছে থাকলেও অফিশিয়াল মূল কপিটি নিখোঁজ রয়েছে। জাতীয় আর্কাইভে থাকা রেকর্ডগুলোই আসল চুক্তি কি না, তা স্পষ্ট নয় বলে জানান তিনি।
ভারত-নেপালের বর্তমান সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে উক্ত চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ। চুক্তি অনুসারে, ‘কালী’ বা ‘মহাকালী’ নদীর পশ্চিমের সমস্ত ভূখণ্ডের দাবি ছেড়ে দেয় নেপাল, যা নদীটিকে দুই দেশের সীমানা হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে কালী নদীর প্রকৃত উৎপত্তি কোথায় - তা নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নেপালের দাবি, নদীটির উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরায়; তাই এর পূর্বাঞ্চলীয় লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা নেপালের ভূখণ্ড। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান হলো - নদীটির উৎপত্তি লিপুলেখের একটি ঝরনা থেকে এবং কালাপানি অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পিথোরাগড় জেলার অধীন।
ইতিপূর্বে ২০২০ সালে ভারত লিপুলেখ যুক্ত করে কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রার জন্য ৮০ কিলোমিটারের সড়ক উদ্বোধন করলে তৎকালীন নেপালি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বিতর্কিত এলাকাগুলোকে যুক্ত করে দেশের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করেন। সম্প্রতি নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে তোপ দাগেন। তবে আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে সীমান্ত দাবির মূল ভিত্তি সুগৌলি চুক্তির আসল নথিই উধাও হয়ে যাওয়ায় নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক দাবি কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সময়ের আলো/টিকে