নতুন অধ্যায়ের পথে ভেনেজুয়েলা, সরকার-বিরোধীদের ঐতিহাসিক বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ভেনেজুয়েলায়। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের ছয় দিন ধরে চলা

2026-08-14T08:44:20+00:00
2026-08-14T08:44:20+00:00
 
  শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
নতুন অধ্যায়ের পথে ভেনেজুয়েলা, সরকার-বিরোধীদের ঐতিহাসিক বৈঠক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৪ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ভেনেজুয়েলায়। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের ছয় দিন ধরে চলা আলোচনা বুধবার শেষ হয়েছে। বৈঠকে দেশের বিচারব্যবস্থা সংস্কার এবং বিদেশে আটকে থাকা ভেনেজুয়েলার সম্পদ ছাড় করানোর বিষয়ে দুই পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত ও কারাবন্দি হওয়ার পর এবারই প্রথম সরকার ও বিরোধীরা আলোচনায় বসল।

বৈঠকে প্রথম যে বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তা হলো বিদেশে জব্দ থাকা ভেনেজুয়েলার সম্পদ ছাড় করানোর পথ খোঁজা। জুনের ভূমিকম্পের পর দেশের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এসব অর্থ ব্যবহার করা হবে। দ্বিতীয় এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাটি হয়েছে বিচারব্যবস্থা নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে সমাজতান্ত্রিক সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে সমালোচিত দেশটির বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ।

সংস্কারের আওতায় দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম ট্রাইব্যুনাল অব জাস্টিসের (টিএসজে) সব বিচারপতিকে সরিয়ে নতুন বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা রয়েছে। নতুন প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করবে একটি স্বাধীন সংস্থা।

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বিশ্লেষক কারমেন বিয়াত্রিস ফার্নান্দেজ বলেন, এত বড় পরিসরে বিচারব্যবস্থার সংস্কার হবে—এটি তিনি কল্পনাও করেননি। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা নির্বাচনী সংস্কারের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।

ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংলাপ অবশ্য নতুন নয়। হুগো শাভেজ ১৯৯৯ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে অন্তত ১৭ বার দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা হয়েছে। এসব আলোচনায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও মানবিক সহায়তার মতো সীমিত কিছু অগ্রগতি হলেও স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি।

এবারের আলোচনার বড় পার্থক্য যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণ। মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে ওয়াশিংটন সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আলোচনাকে ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র পুনর্গঠনের ‘রূপান্তর প্রক্রিয়ার’ সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলা এখনো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়। তিনি মাদুরোর পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিশ্লেষক ফার্নান্দেজের মতে, আগের আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব অনেক বেশি, কারণ এবার আলোচনার পেছনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও রয়েছে।

আলোচনায় সরকারের নেতৃত্ব দেন জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ। বিরোধীদের প্রতিনিধিত্ব করেন ২০১৫ সালের জাতীয় পরিষদের প্রধান দিনোরাহ ফিগুয়েরা। তবে বিরোধীদের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো আলোচনায় ছিলেন না।

মাচাদোর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা পেদ্রো উরুচুর্তু বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে পারে—এমন উদ্যোগকে তাঁর দল সমর্থন করে। তবে আলোচনার ফলাফল বাস্তব ও যাচাইযোগ্য না হলে এর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আলোচনার সময় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিও জোরালো হয়েছে। কারাকাসে বিরোধী নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজনেরা নতুন নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনালের হিসাবে, ভেনেজুয়েলায় এখনো অন্তত ৩৯১ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন।

তবে ক্ষমতাসীন শাভিস্তা শিবিরেও আলোচনাটি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। শাসক দলের সমর্থক হুগো গার্সিয়া প্রশ্ন তুলেছেন, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র কেন এত বড় ভূমিকা রাখছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ এবং দেশটির সম্পদ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাজ্যে আটকে থাকা ভেনেজুয়েলার ৩১ টন স্বর্ণ। এর মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্য মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করার পর এসব সম্পদ জব্দ করা হয়।

বিশ্লেষক ফার্নান্দেজের মতে, আলোচনার ফলাফলকে এক ধরনের সমঝোতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। শাভিস্তা সরকার বিদেশে থাকা স্বর্ণ উদ্ধারের বিষয়টিকে সাফল্য হিসেবে দেখাতে পারবে, আর বিরোধীরা বিচারব্যবস্থার সংস্কারকে নিজেদের অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে পারবে। তবে তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সুপ্রিম ট্রাইব্যুনাল অব জাস্টিসের সংস্কারে সম্মতি।

তবে এই সমঝোতার পরও ভেনেজুয়েলার সামনে দীর্ঘ পথ পড়ে আছে। এবারের আলোচনা সম্ভাব্য কয়েক মাসব্যাপী আলোচনার সূচনা হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে আরও সংস্কার, নতুন নির্বাচন এবং শেষ পর্যন্ত নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ তৈরি হতে পারে।


সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  ভেনেজুয়েলা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: