খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারটি দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এক দশক ধরে মাত্র একজন বেলুন মেকার দিয়ে চলছে এর কার্যক্রম। ফলে নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং অযত্নে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, দীঘিনালার পোমাংপাড়া এলাকায় ২০০৯ সালে পর্যবেক্ষণাগারটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। খাগড়াছড়ি জেলার আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে কার্যকর করার লক্ষ্যে এটি স্থাপন করা হয়। পাহাড়ি এ অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় পর্যবেক্ষণাগারটির গুরুত্বও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যবেক্ষণাগারের ডরমিটরি ভবনের বিভিন্ন কক্ষে দীর্ঘদিনের অযত্নের ছাপ রয়েছে। পড়ে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের অনেকগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণাগারের বেলুন মেকার সুভূতি চাকমা জানান, এখানে মোট আটটি পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় পর্যবেক্ষণাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
জনবল কাঠামো অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাগারে একজন আবহাওয়াবিদ, একজন আবহাওয়া সহকারী, একজন ওয়্যারলেস সুপারভাইজার, একজন উচ্চ পর্যবেক্ষক, একজন পর্যবেক্ষক, একজন বেলুন মেকার, একজন নিরাপত্তা প্রহরী ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ মোট আটটি পদ রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়েও এসব পদে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, পর্যাপ্ত ও সময়োপযোগী আবহাওয়ার পূর্বাভাস না পাওয়ায় হঠাৎ বৃষ্টিতে আউশ ও আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির জমি। আবার পাহাড়ি ঢলে ভেসে যায় ছোট-বড় পুকুরের মাছ। তাদের মতে, পর্যবেক্ষণাগারটি কার্যকরভাবে সচল থাকলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মাধ্যমে কৃষক ও সাধারণ মানুষ আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেতেন।
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, দীঘিনালা একটি বন্যাপ্রবণ এলাকা। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানিতে প্রায়ই এ এলাকা প্লাবিত হয়। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারটি সচল হলে আগাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাবে। এতে এলাকার কৃষকসহ সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত জনবল নিয়োগের জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নেবে বলে আশা করছি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত ও ভবনটির সংস্কার করে পর্যবেক্ষণাগারটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা হোক। এতে দুর্যোগপ্রবণ দীঘিনালায় আবহাওয়ার আগাম তথ্য পেয়ে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।
সময়ের আলো/জোই