মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে প্রথমবারের মতো বহুজাতিক হামলাকারী ড্রোন টাস্কফোর্স গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘টাস্কফোর্স ফ্যালকন স্ট্রাইক’ নামে নতুন এই ইউনিটে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অঞ্চলটির মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সামরিক সদস্যরা থাকবেন।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, নতুন টাস্কফোর্সটি একমুখী হামলাকারী ড্রোনের পাশাপাশি আকাশ, সমুদ্র ও পানির নিচে চলাচলকারী বিভিন্ন ধরনের চালকবিহীন ব্যবস্থা ব্যবহার করবে।
নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন মাত্র নয় মাস আগে মধ্যপ্রাচ্যে একমুখী হামলাকারী ড্রোন ব্যবহারের জন্য ‘টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ গঠন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
স্করপিয়ন স্ট্রাইক এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযানে নতুন নজির তৈরি করেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন নৌযান থেকে হামলাকারী ড্রোন উড্ডয়ন করা হয়। পরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে একমুখী ড্রোন ব্যবহার করা হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে ইরানের বন্দর স্থাপনায় হামলায় সমুদ্রে চালকবিহীন হামলাকারী নৌযানও ব্যবহার করে এই ইউনিট।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, আঞ্চলিক মিত্র ও অংশীদারদের মধ্যে ড্রোন প্রযুক্তিতে ব্যাপক উদ্ভাবন হচ্ছে। তাদের সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে নতুন সম্ভাবনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করাই ফ্যালকন স্ট্রাইকের লক্ষ্য।
সেন্টকম ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। দেশগুলো যুক্ত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে হামলাকারী ড্রোন সক্ষমতাকে একটি বহুজাতিক ও বহুমাত্রিক প্রতিরোধ শক্তিতে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
ফ্যালকন স্ট্রাইকের মার্কিন ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেবে ইউএস স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড সেন্ট্রাল। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ম্যাকডিল বিমানঘাঁটি থেকে পরিচালিত এই কমান্ড সেন্টকমের আওতাধীন ২১টি দেশে বিশেষ অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনা করে।ৎ
সময়ের আলো/কেএইচ