ইরানের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের যুদ্ধের কয়েক মাস পর দেশটির সামরিক সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনে বিস্মিত ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা দ্রুত ফিরে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মকর্তারা ইরানের সামরিক পুনরুদ্ধারের গতি নিয়ে বিস্মিত হয়েছেন। যুদ্ধের সময় ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছিল বলে ইসরায়েল দাবি করেছিল।
২০২৬ সালের প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় প্রায় ৩০ হাজার হামলা চালায়। ইসরায়েলের দাবি, এ সময় ২ হাজার ৬০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শিল্প-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার চার মাসের মধ্যেই ইরান প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে বলে এখন মনে করছে আইডিএফ।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের ঘটনা ইসরায়েলের জন্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইরানের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শিল্প স্থাপনায় হামলার পর ইসরায়েল দাবি করেছিল, এতে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অন্তত এক বছর পিছিয়ে গেছে। কিন্তু ২০২৫ সালের শুরুতেই ইরান দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। এরপর ওই বছরের জুনে আরও প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শিল্প স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরায়েল। তখন ইসরায়েল দাবি করেছিল, এবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তারপরও ইরান আবার উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩০০ বলে ধারণা করা হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে পৌঁছায়। ২০২৬ সালের যুদ্ধের পরও একই ধরনের পুনরুদ্ধারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরান ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করছে। এমনকি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ঢোকার পথ বন্ধ হয়ে গেলেও বুলডোজার ব্যবহার করে দ্রুত তা আবার উন্মুক্ত করার সক্ষমতা ইরান দেখিয়েছে বলে আগের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জেরুজালেম পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের পর ইরানের কাছে ৫০০ থেকে ১ হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এখন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কত দ্রুত পুনরায় শুরু হচ্ছে, সেটিই ইসরায়েলের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান যদি প্রতি মাসে ১০০ থেকে ৩০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ফিরতে পারে, তাহলে ২০২৫ সালের জুনের পর্যায়ের মজুত ২০২৭ সালের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পুনরুদ্ধার করতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২৮ সালের মধ্যে ইসরায়েলের জন্য আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের এই মূল্যায়ন ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আবার হামলা চালানোর সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়েও ইসরায়েলকে কৌশল নির্ধারণ করতে হতে পারে।
তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের মূল্যায়ন নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। তবে পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট গতি প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
সময়ের আলো/কেএইচ