যশোর শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন সড়কের ফুটপাত জুড়ে সারাদিনই জমে থাকে ময়লা-আবর্জনা। অনেক সময় ময়লার স্তূপ সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ছোটোখাটো সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটে। পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কুকুরের উৎপাত থেকে মুক্তি চেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা যশোর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে পথচারীরা নাক চেপে চলাচল করছেন। স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো নির্ধারিত ডাম্পিং স্পট নয়, তবুও অবাধে এখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজার থেকে রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলে করে ওই সড়কের পাশে পচা গৃহস্থালি বর্জ্য, মাছ ও মুরগির নাড়িভুঁড়ি, গোবর, পশুর বর্জ্য, মৃত প্রাণীসহ নানা ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা ফেলা হয়। ময়লা ফেলা নিষিদ্ধ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়েও কোনো সুফল মিলছে না।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ময়লার কারণে এলাকায় হিংস্র কুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেছে। কুকুরগুলো বাড়ির সামনে মলমূত্র ত্যাগ করে এবং শিশু, নারী ও পথচারীদের তাড়া করে। ইতোমধ্যে কয়েকজন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয়রা আরও বলেন, দুর্গন্ধের কারণে ঘরের দরজা-জানালা সারাক্ষণ বন্ধ রাখতে হয়। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। ময়লা ফেলতে বাধা দিলে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা যে-কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ নিতে পারে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী ওই স্থানে স্থায়ীভাবে ময়লা ফেলা বন্ধ, রাস্তার পাশে ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধন গাছ লাগানোর অনুমতি এবং প্রয়োজন হলে অস্থায়ীভাবে ঘের দিয়ে স্থানটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কু-ু বলেন, প্রতিনিয়ত যশোরের প্রতিটি ডাস্টবিন ও নির্ধারিত ময়লার স্পট থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। এরপরও বিষয়টি আমরা সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
সময়ের আলো/এসএকে