ডারউইন টেস্টে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশকে নিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে খুব বেশি আশাবাদী ছিলেন না অনেকে। এর অন্যতম কারণ ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হার এবং অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি ম্যাচে তৃতীয় সারির অস্ট্রেলিয়ান দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া। ফলে সিরিজ শুরুর আগে আলোচনায় খুব একটা ছিল না বাংলাদেশ।
এর সঙ্গে যোগ হয় একের পর এক চোট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের বড় ভরসা হতে পারতেন পেসার নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমেও তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু সিরিজ শুরুর আগেই চোটের কারণে ছিটকে যান এই পেসার।
তবে এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মাঠে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর প্রত্যয় ছিল বাংলাদেশের। ২০০৩ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরের তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল দল। টেস্ট শুরুর আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও বলেছিলেন, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ আর বর্তমান বাংলাদেশ এক নয় এবং এবার তারা জয়ের লক্ষ্যেই খেলবে।
ডারউইনে সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠেও। টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে। হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের পর ব্যাট হাতেও দারুণ খেলেছেন তানজিদ, শান্ত ও মুমিনুলরা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হয়েছেন তানজিদ। মুমিনুল ও শান্তর অর্ধশতকও বাংলাদেশের স্কোরকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে বাংলাদেশ। এতে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে। তৃতীয় দিনে এই ব্যবধান আরও বাড়ানোর লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ ও তানজিদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও ডেভিড ওয়ার্নার। দেশটির গণমাধ্যমেও বাংলাদেশের লড়াকু পারফরম্যান্স গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অফিসিয়াল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ক্রিকেট ডটকম ডট এইউ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়াকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে যে এই ‘টাইগার’রা মোটেও দুর্বল প্রতিপক্ষ নয়। বরং বাংলাদেশকে এখন আর ‘ছোট’ দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, তারা অস্ট্রেলিয়ার জন্য সত্যিকারের হুমকি।
সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে দলকে একসময় নিজেদের ভুল থেকে শেখার সুযোগ না পাওয়া কিংবা হারের আগেই হাল ছেড়ে দেওয়া অনভিজ্ঞ দল হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেই বাংলাদেশই এবার অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট ক্রিকেটের প্রকৃত শিক্ষা দিয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ