কুড়িগ্রামে রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে আগাম ফুলকপির বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আসন্ন শীতের আগেই অধিক লাভের আশায় ফুলকপির বীজ ও চারা রোপণ করলেও বীজের চড়া মূল্য ও সার সংকটে দিশেহারা এ এলাকার কৃষকরা।
চলতি রবি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় সাড়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠে বীজ বপনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা থাকলেও থেমে নেই কর্মযজ্ঞ। একদিকে বৃষ্টি এবং অন্য দিকে কড়া রোদ থেকে বাঁচতে বীজতলা রক্ষায় আলগা কাপড় ও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে জমি।
সরেজমিন দেখা গেছে, কৃষকরা জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করছে। সাদা কাপড় দিয়ে বীজতলা ঢকে দিচ্ছে। যাতে করে বীজতলায় রোদ, বৃষ্টি ও করার প্রভাব না পড়ে।
রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের কৃষক বাদশা মিয়া (৬৫) বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাজারে সংকট সৃষ্টি করে অধিক মূল্যে সার ও বীজ আমাদেরকে কিনতে হচ্ছে। ডিলারদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া না গেলেও অধিক মূল্যে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে।
একই এলাকার আরেক কৃষক লোকমান হাকিম বলেন, ফুলকপি বীজের পুলিতে অতি বৃষ্টি ও প্রচণ্ড রোদ হলে ক্ষতি হতে পারে। মনে হচ্ছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন হবে। দামও ভালো পাবো। এ কারণেই আগাম ফুলকপির চাষ করছি।
করিম, মজিদ, সোলায়মানসহ একাধিক শ্রমিক জানায়, ছিনতাই ইউনিয়নের মীরের বাড়ি এলাকায় হাজার ফসলি জমিতে সব সময় শাক সবজি আবাদ করা হয়। এই কাজ করে আমাদের সংসার চলে। এখানে ২০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করেন।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (দায়িত্ব প্রাপ্ত) হৈমন্তী রানী জানান, এ উপজেলায় ৬০ থেকে ৬৫ হেক্টর জমিতে শাক সবজির চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে লাউ, ছিম, পটল, ফুলকপি, বাঁধাকপি আগাম চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। এসব সবজি আবাদ করে উপজেলার চাহিদা পূরণ করে জেলা শহরের চাহিদা মেটাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ কৃষকদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।
সময়ের আলো/জোই