নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঘটল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ফেরদৌস স্টিলের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগে মামলা হয়েছিল গত মাসে। সরকারের একের পর এক নোটিশ ও সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চরম মাসুল দিতে হলো শ্রমিকদের।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এ পর্যন্ত ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই) তথ্যমতে, ফেরদৌস স্টিলের কর্মপরিবেশে মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম পরিদর্শনের পর ৪ মে এবং ৮ জুনেও অগ্নি ও পেশাগত নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়। বারবার তাগিদ সত্ত্বেও ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ১৫ জুলাই চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে মামলা ঠুকে দেয় ডিআইএফই। দুর্ভাগ্যবশত, আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই প্রাণহানি ঘটল।
ডিআইএফই-এর তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নোঙর করা একটি পুরোনো এলএনজি জাহাজের ভেতরে স্ক্র্যাপ কাটিংয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। এই সময় পূর্ব কোনো পরীক্ষা ছাড়াই জমে থাকা তরল বর্জ্য বা গ্যাসের উপস্থিতিতেই কাজ শুরু হয় এবং হঠাৎ গ্যাস লিকেজ হয়ে তীব্র কার্বন মনোক্সাইড ছড়িয়ে পড়লে নিমেষেই অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। সে সময় প্লান্টে কর্মরত থাকা ৫ জন শ্বাসকষ্টে ঘটনাস্থলেই মারা যান। চট্টগ্রাম মেডিকেল ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ৪ জন। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ ১০-১২ জন শ্রমিক হাসপাতালে লড়ছেন।
দুর্ঘটনার পর যৌথ পরিদর্শনে গেলে উত্তেজিত জনতার হামলায় ডিআইএফই-এর দুই পরিদর্শক গুরুতর আহত হন। জাহাজ ভাঙার বৈধ অনুমোদন ছিল কিনা— এমন প্রশ্নে পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান জানান, বিস্ফোরক অধিদফতরসহ একাধিক সংস্থার ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয়। তবে পুরো এলাকা ঘেরাও থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই না করে বন্ধের দিনেও কাজ চালানোয় মালিকপক্ষের চরম অবহেলাকে দায়ী করেছেন স্থানীয় শ্রমিক নেতারা। একটি দীর্ঘায়িত প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার কারণেই নিরীহ শ্রমিকদের জীবন দিতে হলো কিনা, তদন্তেই তা স্পষ্ট হবে।
সময়ের আলো/জোই