ডারউইনের গরমে বাংলাদেশের ঘাম ঝরেছে ঠিকই, কিন্তু সবচেয়ে বেশি ঘাম ঝরছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিডের পর তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়েছে শান্তবাহিনী। তৃতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে ৬৭ রানে। হাতে এখনও ছয় উইকেট, কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যেন ক্রমেই আরও শক্ত করে নিজেদের হাতে নিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য দিনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল জশ হ্যাজলউডের ৩০০ টেস্ট উইকেট। ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের কাছাকাছি থাকা এই পেসার অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে তিনশ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেছেন। তবে তার মাইলফলকও বাংলাদেশের দাপটকে আড়াল করতে পারেনি।
দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩১৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু শেষ চার উইকেটে আরও ১১৮ রান যোগ করেন মিরাজ-তাসকিনরা। সবচেয়ে বড় অবদান মেহেদী হাসান মিরাজের। ১৫৪ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ৬৫ রান করেন তিনি। হাসান মাহমুদ ৯২ বল খেলে ১৪, তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ এবং তাসকিন আহমেদ ৩২ বলে অপরাজিত ১৪ রান করে বাংলাদেশের লিডকে আরও বড় করেন।
শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যাজলউড ৬ উইকেট নেন। প্রায় এক দশকের মধ্যে টেস্টে এটি তার সেরা বোলিংয়ের একটি। মিরাজকে ফিরিয়েই তিনি ছয় উইকেট পূর্ণ করেন।
২২৮ রানের বিশাল ঘাটতি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের প্রথম ওভারেই তৃতীয় বলে বোল্ড হন জেক ওয়েদারাল্ড। এরপর একই রকমভাবে ফিরিয়ে দেন ট্রাভিস হেডকেও (১৭)। এরপর মার্নাস লাবুশেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তার ইনিংস থামে ৩১ রানে। তাইজুল ইসলামের বল বুঝতে না পেরে সোজা ডিফেন্সের ফাঁক দিয়ে বোল্ড হন তিনি। ফলে ৩ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার চাপ আরও বাড়ে।
এরপর স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মিরাজের বলে স্মিথের বিদায়ে ফের স্বস্তি ফিরে বাংলাদেশের শিবিরে। ৪৪ রান করা স্মিথ মিরাজের কাছেই কট অ্যান্ড বোল্ড হন।
দিন শেষে গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত। তার সঙ্গে ১৯ রানে অপরাজিত অ্যালেক্স ক্যারি। অস্ট্রেলিয়ার এখনও ৬৭ রানে পিছিয়ে। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য হবে দ্রুত বাকি ছয় উইকেট তুলে নেওয়া।
তবে দিনটি অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডিংয়ের জন্যও ছিল হতাশার। স্মিথ ও হেড কাছাকাছি সময়ে দুটি সহজ ক্যাচ ফেলেছেন।
বাংলাদেশকে ৪২৬ রানে পৌঁছে দিতে অস্ট্রেলিয়া মোট পাঁচটি ক্যাচের সুযোগ নষ্ট করেছে। এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে পিছিয়ে পড়া অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ। ১৯৯২ সালে কলম্বো টেস্টে শেন ওয়ার্ন ও গ্রেগ ম্যাথিউজের নৈপুণ্যে ২৯১ রানে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেটিই ছিল প্রথম ইনিংসে বড় রানে পিছিয়ে থেকে তাদের শেষবার প্রত্যাবর্তন।
ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে এবার তারা তাড়া করছে ২২৮ রান। অর্থাৎ ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ লিড সামলানোর লড়াই এখন অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়ার সামনে। কিন্তু সেই ইতিহাস লিখতে হলে আগে বাংলাদেশের তৈরি করা শক্ত দেয়াল ভাঙতে হবে।
আর বাংলাদেশ প্রথম দিন হাসান মাহমুদের আগুনে বোলিং, দ্বিতীয় দিন তানজিদ হাসানের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, তৃতীয় দিনে মিরাজের লড়াই এবং আবারও হাসানের আঘাত, সব মিলিয়ে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরে এখন আর শুধু ম্যাচে নেই। ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।
সময়ের আলো/এসএকে