অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে অস্ট্রেলিয়া। সেই মিশনে ওপেনিংয়ে পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিকরা। জেক ওয়েদারাল্ডের জায়গায় দলে ফিরেছেন ম্যাট রেনশ।
প্রায় তিন বছর পর আবারও সাদা পোশাকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটারকে নিয়ে সতীর্থদের প্রত্যাশাও কম নয়। অ্যালেক্স ক্যারির বিশ্বাস, ম্যাকাইয়ে ফিরেই রেনশ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারবেন।
৩০ বছর বয়সি রেনশকে ডারউইন টেস্টে লজ্জাজনক হারের পর অস্ট্রেলিয়া দলে ফেরানো হয়েছে। ওয়েদারাল্ডকে বাদ দিয়ে ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেডের সঙ্গী হিসেবে তাকেই বেছে নিয়েছেন নির্বাচকরা।
বুধবার সকালে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় নেটে ব্যাটিংও করেছেন রেনশ। শনিবার শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে তার ফেরাটা এখন প্রায় নিশ্চিত। দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য এই ম্যাচ জিতে সিরিজ সমতায় ফেরানো।
প্রায় তিন বছর পর টেস্ট দলে ফেরানো হলেও রেনশকে নিয়ে বেশ আশাবাদী ক্যারি। অস্ট্রেলিয়ার এই উইকেটকিপার ব্যাটার মনে করেন, গত কয়েক বছরে ক্রিকেটার হিসেবে অনেক পরিণত হয়েছেন রেনশ। মানসিক দৃঢ়তাও বেড়েছে তার।
‘রেনার্স (রেনশ) মানসিকভাবে খুব ভালো অবস্থায় আছে এবং তার ক্রিকেটেও সেটার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে,’ সাংবাদিকদের বলেন ক্যারি। রেনশ এখন শুধু একজন ক্রিকেটার নন, পরিবারের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাদা বলের ক্রিকেটেও দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি। ক্যারির মতে, এসব অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত করেছে।
‘এখন তার একটি পরিবার আছে এবং সে আন্তর্জাতিক সাদা বলের ক্রিকেটও খেলেছে। তাই গত কয়েক বছরে দলের আশপাশে সে ছিল।’ চ্যালেঞ্জ এলেই রেনশ যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, সেটিও সতীর্থদের নজর কেড়েছে।
ক্যারির ভাষ্যে, ‘যে চ্যালেঞ্জই তার সামনে এসেছে, সে সত্যিই ভালোভাবে সেটার মোকাবিলা করেছে। ট্রাভের (হেড) সঙ্গে রেনার্সকে মাঠে দেখতে আমি মুখিয়ে আছি।’ ঘরোয়া ক্রিকেটেও গত মৌসুমে রেনশর ব্যাট ছিল বেশ ধারালো। কঠিন শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে ৪৯৯ রান করেছেন ৪৯.৯ গড়ে, যার মধ্যে ছিল তিনটি সেঞ্চুরি। ক্যারির চোখে, এই পারফরম্যান্সই রেনশের বর্তমান অবস্থার বড় প্রমাণ।
‘রেনার্স ক্রিকেটার হিসেবে অবশ্যই পরিণত হয়েছে। ৩০-এর ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সেটাই স্বাভাবিক। নিজের সম্পর্কে, খেলা সম্পর্কে এবং এর সঙ্গে আসা চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে আপনি অনেক কিছু শিখতে থাকেন,’ বলেন ক্যারি।
২০১৬ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল রেনশর। ক্যারিয়ারের শুরুতে তার পরিচিতি ছিল মূলত ধৈর্যশীল ও রক্ষণাত্মক ব্যাটার হিসেবে। সময়ের সঙ্গে সেই রেনশ বদলেছেন। এখন তিনি মাঠের চারপাশে শট খেলতে সক্ষম, আর ও আক্রমণাত্মক ও গতিশীল ব্যাটার।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সাদা বলের ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাও তার এই পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। তিন বছর পর টেস্টে ফেরার অপেক্ষায় থাকা রেনশর জন্য তাই ম্যাকাই টেস্ট হতে যাচ্ছে নিজেকে নতুন করে প্রমাণের সুযোগ। আর অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি শুধু একজন ওপেনারের প্রত্যাবর্তন নয়, বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যর্থতার পর ব্যাটিং অর্ডারে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টাও।
ডারউইনের হারের পর অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেছে কি না, সেটি মানতে নারাজ কেয়ারি। তার মতে, এই দল চাপের মুখে পড়লে ঘুরে দাঁড়াতে জানে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে