অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ার সেই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি শরিফুল ইসলাম। চোট তাকে দূরে রেখেছিল ডারউইন টেস্ট থেকে। তবে সতীর্থরা যখন ৯ উইকেটে অজিদের হারিয়ে ইতিহাস লিখেছেন, শরিফুল তখনও ছিলেন সেই আনন্দের অংশ। মাঠে না থেকেও উদযাপনে ছিলেন, ছবিতে ছিলেন। তাই আক্ষেপের চেয়ে তার কাছে বড় হয়ে উঠেছে দলের সাফল্য। এবার সেই ইতিহাসের পরের অধ্যায়েই মাঠে নামার অপেক্ষা শরিফুলের।
আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর এরই মধ্যে ম্যাকাইয়ে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ দল। দলের সঙ্গে ডারউইন থেকে ম্যাকাইয়ে গেছেন শরিফুলও। চোট কাটিয়ে এবার একাদশে ফেরার অপেক্ষায় ২৫ বছর বয়সি বাঁ-হাতি পেসার। ডারউইন টেস্টে খেলতে না পারা নিয়ে অবশ্য কোনো আক্ষেপ জমিয়ে রাখতে চান না শরিফুল। বরং চোটের কারণে পাওয়া বিশ্রামকে নিজের জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। বুধবার ম্যাকাইয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনার ওপর আস্থা রাখার কথা বলেন এই পেসার।
‘আনলাকি না। আসলে যেটা হয়, সেটা তো বলে-কয়ে হয় না। যেটা হয়, আল্লাহ ভালোর জন্যই করেন। ইনজুরির পরে কিছুদিন বিশ্রাম পেয়েছি, রিহ্যাব করেছি। আমি মনে করি, এটা আমার শরীরের জন্য আরও ভালো হয়েছে’। ডারউইন টেস্টের একাদশ তো দূরের কথা, ম্যাচের শুরুতে স্কোয়াডেও ছিলেন না শরিফুল। তবে ম্যাচ চলাকালেই ডারউইনে পৌঁছে যান তিনি। পরে ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেন ঐতিহাসিক জয়ের উদযাপনে। মাঠের বাইরেও সেই মুহূর্তের অংশ হতে পেরে খুশি শরিফুল।
‘আমার খুবই ভালো লাগছে। এরকম একটা জয়ের পার্ট হয়ে থাকতে পেরে... মাঠের ভেতরে, ছবিতে তো অন্তত ছিলাম (হাসি)। স্কোয়াডে না থাকলেও খুবই ভালো লাগছে। চেষ্টা করব এটা আমরা এগিয়ে নেওয়ার। দেখা যাক কতটুকু ওপরে নিয়ে যেতে পারি।’
প্রথম টেস্ট না খেলেও নিজেকে দুর্ভাগা মনে করেন না শরিফুল। বরং সতীর্থদের জন্য সবসময় প্রার্থনা করেছেন বলেই জানালেন তিনি। ‘আমি টেস্টে ছিলাম না। তবে বলব না, আমি আনলাকি। আমি হয়তো চোটে পড়েছি, তবে যারা খেলেছে তাদের জন্য আমি সবসময় দোয়া করেছি, তারা যেন সেরা পারফর্মটা করতে পারে ও আমরা যাতে জিততে পারি।’ সেই জয় আসার পর নিজের আনন্দের কথাও আলাদা করে জানালেন এই পেসার, ‘যখন আমরা ম্যাচ জিতেছি, বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের সবাই যেমন খুশি হয়েছে তার চেয়ে বেশি... হয়তো আরও বেশি খুশি হয়েছি। আপনারাও (সাংবাদিক) নিশ্চয়ই অনেক খুশি হয়েছেন যে, এত বড় একটা জয় দেখতে পেরেছেন।’
ডারউইনে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম বড় শক্তি ছিল পেস বোলিং। হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী ও তাসকিন আহমেদের দাপটে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটই তুলে নেন বাংলাদেশের পেসাররা। এর মধ্যে হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটেই ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
আরও পড়ুন
সতীর্থদের এমন পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত শরিফুল। তবে তার কাছে পেসারদের সাফল্যের চেয়েও বড় হলো পুরো দলের পারফরম্যান্স। ‘পেসাররা যখন ভালো করে অবশ্যই ভালো লাগে। শুধু পেসার না, বাংলাদেশ দল যখন ভালো করে, ব্যাটিং-ফিল্ডিং-বোলিং; তখন বেশি ভালো লাগে। কারণ আমরা যখন দলগতভাবে পারফর্ম করি তখনই কিন্তু আমরা সুন্দরভাবে জয় ছিনিয়ে আনতে পারি। তখন খুব ভালো লাগে।’
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের সাম্প্রতিক উত্থানে বড় অবদান রয়েছে সাবেক ফাস্ট বোলিং কোচ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি অ্যালান ডোনাল্ডের। বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছাড়ার পরও তার সঙ্গে পেসারদের যোগাযোগ রয়েছে।
শরিফুলও নিয়মিত তার শুভকামনা পান। অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ডোনাল্ডের কাছ থেকে পাওয়া বার্তার কথাও জানালেন তিনি, ‘উনি (অ্যালান ডোনাল্ড) পার্সোনালি মেসেজ দেন সবাইকে। আমি যখন এসেছি তখন আমাকে মেসেজ দিয়েছিলেন, বেস্ট অব লাক। তুমি ইনজুরি থেকে আসছো, হয়তো নেক্সট ম্যাচ খেলবে। তোমার জন্য শুভকামনা রইল।’
ডারউইনে বাংলাদেশ যে ইতিহাস গড়েছে, তার সাক্ষী ছিলেন শরিফুল। এবার সেই ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ তার সামনে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের সাফল্য বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি দ্বিতীয় টেস্টে শরিফুলের ফেরার সম্ভাবনাও যোগ করছে পেস আক্রমণে নতুন মাত্রা।
ডারউইনে সতীর্থদের সাফল্য দূর থেকে উদ্যাপন করেছিলেন শরিফুল। ম্যাকাইয়ে এবার তার অপেক্ষা মাঠে নেমে সেই সাফল্যের ধারাটা আরও এগিয়ে নেওয়ার।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে