গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর শুরু হয়েছে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ। বিদ্যালয়টি রক্ষায় আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন স্কুল হারানোর পর নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর আগে মঙ্গলবার তিস্তার তীব্র ভাঙনে বিদ্যালয়ের পূর্ব প্রান্ত নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা অবশিষ্ট টিনশেড ঘর ও বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
দ্রুতই উপযুক্ত স্থানে স্কুলটি সরিয়ে নেওয়া হবে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ায় স্কুলের সবকিছু খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছি। এর আগেও ভাঙন দেখা দিলে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছিলাম।
পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাজ চলছে।
বিদ্যালয়টি বিলীন হওয়ার আগে কেন জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। ভাঙনের এক দিন আগেও সেখানে ভাঙন ছিল না। ভাঙন না থাকলে জিও ব্যাগ ফেলার অনুমতি নেই। এখন যতটা জিও ব্যাগ প্রয়োজন হবে তা ফেলা হবে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানোসহ বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছেন।
সবশেষ গত ৮ আগস্ট পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানেই বিদ্যালয়ের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হওয়ার পর জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগকে দেরিতে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের কথায়, ভাঙন ঝুঁকি যখন দেখা দিয়েছিল তখন জিও ব্যাগ ফেলা হলে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা যেত। এখন স্কুল হারানোর পর শুরু হওয়া এই তৎপরতা তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। এখন স্কুলটি নদীতে চলে যাওয়ার পর জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এই পরিস্থিতি দেখতে হতো না।
স্থানীয়দের দাবি, অবশিষ্ট অংশ রক্ষার পাশাপাশি দ্রুত নিরাপদ স্থানে বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিস্তার ভাঙনপ্রবণ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি রক্ষায় আগাম ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা