ঝালকাঠির বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে নলছিটি উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় বিদ্যালয় দুটি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এই দুই প্রতিষ্ঠানের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। সম্প্রতি নদীর বিশাল অংশ ভেঙে পড়ায় বিদ্যালয় মাঠের একাংশসহ নদীর বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুণ্ডু বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো মহোদয় ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আমরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুণ্ডু।
সরেজমিন দেখা যায়, নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের ভবানীপুরে অবস্থিত ভাবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নদী থেকে দূরত্ব খুবই সামান্য। জোয়ারের সময় পানিতে বিদ্যালয়ের মাঠ তলিয়ে ঢেউ আছড়ে পড়ে বিদ্যালয়ের ভবনে।
ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনমথ রঞ্জন সমদ্দার বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বিদ্যালয় ভবনের কাছে এসে পৌঁছেছে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুবই আতঙ্কে থাকি। কখন কোন অঘটন ঘটে যায় কে জানে! বেড়িবাঁধ না থাকায় বাচ্চারা নদীতে ছুটে যায়, আবার জোয়ারের সময় মাঠে থইথই করে পানি। এর চেয়েও বড় আতঙ্ক হলো, যেভাবে নদী ভাঙছে তাতে যেকোনো সময় বিদ্যালয় ভবন নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তা হলে এই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে। কর্তৃপক্ষ যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়।
ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার ও সহকারী শিক্ষক হাসানুজ্জামান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে একসময় ৩শ শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু এই নদীভাঙনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সংকট হওয়ায় অভিভাবকরা তাদের অন্যত্র ভর্তি করাচ্ছেন। আমাদের এখানে এখন সব শ্রেণি মিলিয়ে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী আছে। বিষখালীর প্রবল ভাঙন আমাদের বিদ্যালয়ের খুব কাছে চলে এসেছে। একটি বেড়িবাঁধ ছিল, সেটিও কয়েক দিন আগে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশসহ নদীতে চলে গেছে। এখন যেটুকু মাঠ অবশিষ্ট আছে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে মাঠ আর বিদ্যালয় ভবন নদীর গর্ভে যেতে সময় লাগবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক শাহিন হাওলাদারসহ কয়েকজন বলেন, বিষখালীর ভাঙনে এই এলাকার বহু বাসিন্দা ভূমিহীন হয়েছেন। এই বর্ষায় ভাঙন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই কারও না কারও বাড়িঘর, কৃষিজমি নদী গ্রাস করছে। আমার সন্তান এখানকার একটি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। সেটি ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন যাতে দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা