তথ্যের ভিড়ে সত্যের সংকট

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

মতামত

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও রয়েছে। নিজের বক্তব্য প্রকাশের সময় অন্যের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার

2026-08-23T06:17:49+00:00
2026-08-23T06:17:49+00:00
 
  রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
মতামত
তথ্যের ভিড়ে সত্যের সংকট
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও রয়েছে। নিজের বক্তব্য প্রকাশের সময় অন্যের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। সমালোচনা করা যাবে, প্রশ্ন তোলা যাবে, ভিন্নমত প্রকাশ করা যাবে, কিন্তু মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাউকে হেয় করা বা সামাজিক উত্তেজনা তৈরি করা কোনো দায়িত্বশীল আচরণ নয়। 

শুধু নাগরিককে সচেতন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম, প্রশাসন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজ- সব পক্ষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ মানুষের জীবনযাত্রায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে। একটি স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ক্যামেরা, লাইব্রেরি ও সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম- সবকিছুর সমন্বিত রূপ। 

পৃথিবীর এক প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনা কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অন্য প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তথ্য পাওয়ার এই গতি আধুনিক সভ্যতার বড় অর্জন। কিন্তু এর বিপরীত দিকও রয়েছে। সত্য তথ্যের পাশাপাশি মিথ্যা, অর্ধসত্য, গুজব, বিভ্রান্তিকর ছবি-ভিডিও এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণাও একই গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। 

আগে একটি গুজব ছড়াতে সময় লাগত, এখন একটি ক্লিকই যথেষ্ট। কেউ কোনো তথ্য তৈরি করল, অন্য একজন যাচাই না করে শেয়ার করল, এরপর সেটি কয়েক মিনিটের মধ্যে অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছে গেল। একপর্যায়ে মানুষ অনেক সময় উৎসের কথা ভুলে গিয়ে শুধু প্রচারের ব্যাপকতাকে সত্যতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। অথচ কোনো তথ্য বহুবার শেয়ার হলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না।

এই বাস্তবতায় আমাদের সামনে বড় প্রশ্ন- তথ্যের এই বিস্ফোরণের যুগে আমরা কি শুধু তথ্যের ভোক্তা থাকব, নাকি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখব।

তথ্য পাওয়া আর সত্য জানা এক বিষয় নয় : ডিজিটাল যুগে তথ্য পাওয়া সহজ, কিন্তু তথ্যের সত্যতা যাচাই করা এখনও কঠিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই সঙ্গে সংবাদ, ব্যক্তিগত মতামত, বিজ্ঞাপন, বিনোদন, প্রচারণা ও গুজব পাওয়া যায়। ফলে কোনটি নির্ভরযোগ্য এবং কোনটি বিভ্রান্তিকর তা বোঝার দায়িত্ব অনেকটাই ব্যবহারকারীর ওপর এসে পড়েছে।

একটি চমকপ্রদ শিরোনাম মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। আবেগঘন ছবি মনকে নাড়া দিতে পারে। কোনো ভিডিও ভয় বা ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই তথ্যের সত্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেগের পরিবর্তে যুক্তি ও যাচাইকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

গুজব কেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে : মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নতুন, চমকপ্রদ ও ব্যতিক্রমী তথ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বিশেষ করে কোনো ঘটনা নিয়ে যখন মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বা কৌতূহল থাকে, তখন অসম্পূর্ণ তথ্যও দ্রুত বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়ে যায়। গুজবের আরেকটি শক্তি হলো আবেগ। ভয়, রাগ, ঘৃণা, বিস্ময় কিংবা অতিরিক্ত আনন্দ- এসব অনুভূতি মানুষকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে উৎসাহিত করে। তখন অনেকেই ‘এটি সত্য কি না’ ভাবার আগে ‘এটি অন্যদের জানানো দরকার’- এই চিন্তা করেন। এই মানসিক প্রবণতাকে কাজে লাগিয়েই অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়।

গুজবের সামাজিক মূল্য অনেক বেশি : গুজবকে নিছক কথাবার্তা মনে করা ভুল। একটি মিথ্যা তথ্য কোনো ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করতে পারে, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমাতে পারে এবং কোনো সামাজিক গোষ্ঠী সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। কখনো একটি গুজব মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আবার কখনো তা সামাজিক বিভাজন বাড়ায়।

সংকটকালে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়লে মানুষ সঠিক নির্দেশনা অনুসরণ না করে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ভুল তথ্য একবার মানুষের মনে জায়গা করে নিলে পরে সত্য তথ্য প্রকাশ করেও সেই ধারণা পুরোপুরি দূর করা কঠিন হতে পারে।

স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব : বিপদের আরেক নাম : স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ আরও কম। কারণ একটি ভুল স্বাস্থ্যপরামর্শ মানুষের আচরণ ও চিকিৎসা গ্রহণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় কোনো খাবার, ভেষজ উপাদান, ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতিকে সব রোগের সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আবার কখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে মানুষকে দূরে রাখার মতো পরামর্শও দেখা যায়।

স্বাস্থ্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসক, স্বীকৃত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু একজনের অভিজ্ঞতা সবার জন্য চিকিৎসার প্রমাণ নয়।

ছবি ও ভিডিওর ক্ষেত্রেও সতর্কতা : ‘ছবি আছে, তাই ঘটনা সত্য’- এই ধারণা এখন আর নিরাপদ নয়। পুরোনো ছবি নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া, একটি দেশের ভিডিও অন্য দেশের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা কিংবা ভিডিওর সামান্য অংশ কেটে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ তৈরি করা সম্ভব। তাই কোনো ছবি বা ভিডিও দেখলে তার উৎস, তারিখ ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন। ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছিল, সেটি কোন ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সেটি সম্পাদিত কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নতুন বাস্তবতা : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বাস্তব মানুষের মতো দেখতে ছবি, কণ্ঠস্বরের অনুকরণ কিংবা সম্পাদিত ভিডিও তৈরি করা আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু চোখে দেখা বা কানে শোনা কোনো কনটেন্টকে সত্য ধরে নেওয়া আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ কারণে ভবিষ্যতের নাগরিকদের শুধু ডিজিটাল দক্ষতা নয়, ডিজিটাল বিচারবোধ অর্জন করতে হবে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কে দায়িত্বশীলতা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক ও সামাজিক মতপ্রকাশের বড় জায়গা তৈরি করেছে। এটি ইতিবাচক। মানুষ নিজের মত প্রকাশ করতে পারছেন, অন্যের বক্তব্য জানতে পারছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে পারছেন। তবে মতের পার্থক্যকে শত্রুতায় পরিণত করা উচিত নয়। নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে ভুল তথ্য ব্যবহার করলে গণতান্ত্রিক বিতর্ক দুর্বল হয়। যুক্তির জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়া উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমান বা মিথ্যা অভিযোগ কোনো সুস্থ মতবিনিময়ের অংশ হতে পারে না।

শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল শিক্ষা : শিশু-কিশোররা খুব অল্প বয়সেই অনলাইন জগতে প্রবেশ করছে। তারা যেমন শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট পাচ্ছে, তেমনি বিভ্রান্তিকর তথ্যেরও মুখোমুখি হচ্ছে। পরিবারের দায়িত্ব হলো সন্তানকে শুধু স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া নয়, কীভাবে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটিও শেখানো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তথ্য যাচাই, অনলাইন আচরণ, গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল নাগরিকত্ব নিয়ে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা থাকা প্রয়োজন।

পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : গুজব প্রতিরোধের প্রথম প্রতিষ্ঠান হতে পারে পরিবার। পরিবারের সদস্যরা কোনো তথ্য পাওয়ার পর একে অপরকে যাচাই করতে উৎসাহিত করতে পারেন। বিশেষ করে ‘এখনই সবাইকে পাঠান’, ‘জরুরি সতর্কতা’, ‘গোপন তথ্য’ কিংবা ‘সরকারি ঘোষণা’- এ ধরনের ভাষায় কোনো বার্তা এলে সেটি যাচাই ছাড়া ফরওয়ার্ড না করার অভ্যাস তৈরি করা দরকার।

প্রবীণদের তথ্য সচেতনতা : ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নতুন ব্যবহারকারীদের একটি অংশ বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। পরিবারের তরুণ সদস্যরা তাদের তথ্য যাচাইয়ের সহজ পদ্ধতি শেখাতে পারেন। কোনো মেসেজে পরিচিত কারও নাম বা ছবি থাকলেই সেটি সত্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য নিশ্চিত করা যেতে পারে।

সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব : গুজব প্রতিরোধে দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতার চেয়ে তথ্যের নির্ভুলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। একটি ভুল সংবাদ পরে সংশোধন করা গেলেও
প্রথমবারের ভুল তথ্যের প্রভাব অনেক মানুষের মধ্যে থেকে যেতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের আগে উৎস যাচাই, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বোঝা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে একাধিক উৎস থেকে তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রশাসনের দ্রুত ও স্বচ্ছ তথ্যপ্রদান : কোনো ঘটনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি থাকলে গুজবের জায়গা তৈরি হয়। তাই গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও পরিষ্কার তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। তথ্যের শূন্যতা যত দীর্ঘ হয়, অনুমান ও গুজবের সুযোগ তত বাড়ে। নিয়মিত ব্রিফিং, স্পষ্ট বক্তব্য এবং সহজ ভাষায় তথ্য প্রকাশ মানুষের বিভ্রান্তি কমাতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব : ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোও দায়িত্বের বাইরে নয়। বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত, রিপোর্ট করার সুযোগ, ব্যবহারকারীকে সতর্ক করা এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার কমানোর মতো ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা কখনো মানুষের সচেতনতার বিকল্প হতে পারে না। শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর বিচারবোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

‘ফরওয়ার্ড’ করার আগে কয়েক সেকেন্ড : একটি তথ্য শেয়ার করার আগে কয়েক সেকেন্ড থামা অনেক বড় ভুল ঠেকাতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে অনলাইনে আমরা শুধু তথ্যের পাঠক নই, শেয়ার করার মাধ্যমে আমরা নিজেরাও তথ্যের পরিবেশক হয়ে যাই। তাই ‘আগে যাচাই, পরে শেয়ার’- এই অভ্যাসকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করা দরকার।

গণমাধ্যম সচেতনতা নাগরিক দক্ষতা : ডিজিটাল যুগে গণমাধ্যম সচেতনতা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা। কোনটি তথ্য, কোনটি মতামত, কোনটি প্রচারণা এবং কোনটি বিজ্ঞাপন- এই পার্থক্য বুঝতে পারা জরুরি। একজন সচেতন নাগরিক কোনো তথ্য শুধু নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে গ্রহণ করবেন না, বরং নিজের মতের বিপরীত তথ্যও যাচাই করার মানসিকতা রাখবেন।

স্বাধীন মতপ্রকাশ ও দায়িত্ব : মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও রয়েছে। নিজের বক্তব্য প্রকাশের সময় অন্যের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। সমালোচনা করা যাবে, প্রশ্ন তোলা যাবে, ভিন্নমত প্রকাশ করা যাবে, কিন্তু মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাউকে হেয় করা বা সামাজিক উত্তেজনা তৈরি করা কোনো দায়িত্বশীল আচরণ নয়।

গুজব প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার : শুধু নাগরিককে সচেতন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম, প্রশাসন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজ- সব পক্ষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য যাচাইয়ের শিক্ষা, সংবাদমাধ্যমে পেশাগত মান, প্রশাসনের দ্রুত তথ্যপ্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল ব্যবহার- সবকিছুর সমন্বয়েই একটি শক্তিশালী তথ্য সচেতন সমাজ গড়ে উঠতে পারে।

আমাদের প্রত্যাশা : আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মানুষ খবরের দ্রুততার চেয়ে সত্যতার গুরুত্ব বেশি বুঝবে। কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য দেখলেই শেয়ার না করে যাচাই করবে। কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগ দেখলে তা সত্য ধরে না নিয়ে প্রমাণের অপেক্ষা করবে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল উৎসের ওপর নির্ভর করবে।

তথ্যের এই বিস্ফোরণের যুগে আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট তথ্যের অভাব নয়, বরং নির্ভরযোগ্য তথ্যকে বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে আলাদা করা। প্রযুক্তি আমাদের হাতে অভূতপূর্ব ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। সেই ক্ষমতা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা এখন আমাদের নাগরিক কর্তব্য। একটি গুজব কয়েক সেকেন্ডে ছড়িয়ে পড়তে পারে, কিন্তু তার ক্ষতি মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। 

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিটি ক্লিক, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও ও শেয়ারের সঙ্গে দায়িত্ব জড়িয়ে আছে। সচেতন নাগরিকের পরিচয় শুধু সে কত দ্রুত খবর পায় তা নয়, বরং খবর পাওয়ার পর কতটা বিচক্ষণতার সঙ্গে তা যাচাই করে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   তথ্য  সত্য  সংকট  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: