রাষ্ট্রপতির শপথ : সাংবিধানিক ক্ষমতা-কাঠামোর প্রশ্ন

শহীদুল্লাহ ফরায়জী

মতামত

প্রজাতন্ত্রের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়েছেন। অতি দ্রুতই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু

2026-08-21T03:46:08+00:00
2026-08-21T03:46:08+00:00
 
  শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬,
৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
মতামত
রাষ্ট্রপতির শপথ : সাংবিধানিক ক্ষমতা-কাঠামোর প্রশ্ন
শহীদুল্লাহ ফরায়জী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৬ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
প্রজাতন্ত্রের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়েছেন। অতি দ্রুতই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এই শপথকে কেবল একটি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ রাষ্ট্রপতির শপথ পদ্ধতির সঙ্গে রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং প্রজাতন্ত্রের সাংবিধানিক চরিত্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে বর্তমানে কার্যকর পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পুনঃপ্রবর্তিত সেই সাংবিধানিক ব্যবস্থার আলোকে, যার মূল প্রবর্তন ঘটেছিল ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে— রাষ্ট্রপতির শপথ প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে স্পিকারের নিকট গ্রহণের ব্যবস্থা করে। রাষ্ট্রপতির শপথ কোনো রাজনৈতিক আনুগত্যের শপথ নয়; এটি সংবিধান ও প্রজাতন্ত্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ। তাই কে রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন— এই প্রশ্নটিও নিছক আনুষ্ঠানিক নয়। এর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন জড়িত।

বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে আর্টিকেল-১৪৮ এবং তৃতীয় তফসিলের অধীনে রাষ্ট্রপতির শপথ প্রধান বিচারপতির কাছে গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছিল। একইভাবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথের ক্ষেত্রেও প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক ভূমিকা নির্ধারিত ছিল।

এটি কোনো আকস্মিক আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছিল না। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হবেন এবং তার শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারী— প্রধান বিচারপতিকে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি গভীর সাংবিধানিক দর্শন নিহিত ছিল : রাষ্ট্রপতি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতিনিধি হিসেবে নয়, সমগ্র প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হন।

দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক রাষ্ট্রের সংবিধানেও রাষ্ট্রপ্রধানের শপথ গ্রহণের সঙ্গে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারীর একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের সংবিধানের আর্টিকেল-৬০, পাকিস্তানের আর্টিকেল-৪২, নেপালের আর্টিকেল-৭১, শ্রীলঙ্কার আর্টিকেল-৩২(১) এবং মালদ্বীপের আর্টিকেল-১১৪— প্রতিটিতেই রাষ্ট্রপতির শপথের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি অথবা সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কর্তৃত্বকে সাংবিধানিকভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের অন্য কোনো বিচারক এবং ভারতের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি অনুপস্থিত থাকলে সুপ্রিম কোর্টের জেষ্ঠ্যতার অনুসারে যে বিচারককে পাওয়া যাবে তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানেও রাষ্ট্রপতির শপথের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতিকে নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তাহলে হঠাৎ বাংলাদেশে এই ব্যতিক্রমী পরিবর্তন কেন? কেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ— রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারীকে সরিয়ে সংসদীয় কাঠামোর একজন পদাধিকারীকে বসানো হলো? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের গভীরভাবে বুঝতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সময়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রের অন্য ক্ষমতা-কাঠামোর পরিবর্তন বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর সময় রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা, নির্বাহী ক্ষমতার বিন্যাস এবং বিচার বিভাগের সাংবিধানিক অবস্থানেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। সেই একই পরিবর্তনের ধারায় রাষ্ট্রপতির শপথ প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে সরিয়ে স্পিকারের কাছে নেওয়া হয়।

প্রশ্ন হলো, কেন এই পরিবর্তন করা হয়েছিল? কোন সাংবিধানিক দর্শন থেকে করা হয়েছিল? এই পরিবর্তনের মাধ্যমে কি রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যও পরিবর্তিত হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না খুঁজে রাষ্ট্রপতির শপথকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখলে সাংবিধানিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অদৃশ্য থেকে যাবে।

১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে, একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়, সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা ও সম্পর্কেও মৌলিক পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে স্পিকারকে শপথ পাঠ করানোর কর্তৃপক্ষ করা হয়।

প্রশ্ন হলো— রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠ করানোর কপক্ষ পরিবর্তন কি কেবল একটি বাক্য বা একটি সাংবিধানিক তফসিল পরিবর্তন, নাকি এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোরও পরিবর্তন? আমার বিবেচনায়, প্রশ্নটি দ্বিতীয়টির। রাষ্ট্রপতির শপথের সঙ্গে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারীকে যে সাংবিধানিক সম্পর্কের মধ্যে রাখা হয়েছিল, তা যদি ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক স্বাতন্ত্র্যের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিফলন হয়ে থাকে, তাহলে সেই সম্পর্ককে সংসদীয়-রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে স্থানান্তর করা নিছক আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এখানেই সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতার সীমা নিয়ে মৌলিক প্রশ্নটি সামনে আসে। সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতা এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করার ক্ষমতা এক বিষয় নয়।

সংসদ সংবিধানপ্রদত্ত একটি constituted power অর্থাৎ সংবিধানের অধীন প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতা। সংসদ সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়। সংবিধানের উৎস জনগণের constituted power; সংসদ সেই সংবিধান থেকে ক্ষমতা লাভ করে। অতএব সংসদকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেই সংসদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস, বিকৃত বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতা অর্জন করে না।

রাষ্ট্রের মৌলিক চরিত্র, সাংবিধানিক সর্বোচ্চতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য— এসব যদি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ হয়, তাহলে কোনো সংশোধনীর নাম ‘সংশোধনী’ হলেই তা বিচারিক পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে চলে যেতে পারে না।

সুতরাং প্রশ্নটি খুব সরল— রাষ্ট্রপতির শপথের সাংবিধানিক সম্পর্ককে প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে স্পিকারের কাছে স্থানান্তর করার মাধ্যমে কি সংবিধানের কোনো মৌলিক ক্ষমতা-কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছিল? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুধু বৈধ নয় বরং প্রয়োজনীয়।

চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে যে ব্যাপক ক্ষমতা-কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ পরবর্তী সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাতিল বা পরিবর্তিত হয়। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতির শপথের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠের ক্ষমতা স্পিকারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়।

এখানে একটি মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্ন থেকেই যায় : কোনো সাংবিধানিক বিধান একবার বাতিল হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী সংশোধনীর মাধ্যমে হুবহু বা অনুরূপভাবে পুনঃপ্রবর্তিত হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংবিধানিক বৈধতা অর্জন করে না। পরবর্তী সংশোধনীকেও স্বতন্ত্রভাবে তার সাংবিধানিক ক্ষমতার উৎস, প্রক্রিয়া এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যের আলোকে বিচার করতে হবে।

অর্থাৎ কোনো বিধানের পুনঃপ্রবর্তন তার পূর্ববর্তী সাংবিধানিক ইতিহাসকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয় না। বরং প্রশ্ন উঠতে পারে— যে ধরনের পরিবর্তন পূর্বে সংবিধানের ক্ষমতা-কাঠামোকে প্রভাবিত করেছিল, পরবর্তী সময়ে একই বা অনুরূপ পরিবর্তন আনার সাংবিধানিক ক্ষমতা সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষের ছিল কি না।

বর্তমানে পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে সংবিধানের Third Schedule-এ রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠের জন্য স্পিকার নির্ধারিত। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আর কোনো দলের নেতা নন। তিনি কোনো নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি নন। তিনি কোনো সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতিনিধি নন। তিনি সমগ্র প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান। রাষ্ট্রপতির এই সর্বজনীন ও দলনিরপেক্ষ অবস্থানের সঙ্গে তার শপথের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থারও সামঞ্জস্য থাকা উচিত।

স্পিকার নিঃসন্দেহে একটি সাংবিধানিক পদ। কিন্তু স্পিকার সংসদীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি পদ। ফলে রাষ্ট্রপতির শপথকে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদাধিকারীর কাছ থেকে সরিয়ে সংসদীয় কাঠামোর একজন পদাধিকারীর কাছে নিয়ে যাওয়া রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাতন্ত্র্য এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।

শপথ পাঠকারী সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের অবস্থান পরিবর্তিত হলে শপথের সাংবিধানিক প্রতীকী অর্থও পরিবর্তিত হয়। রাষ্ট্রপতি যদি সমগ্র প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান হন, তাহলে তার শপথের ব্যবস্থাও এমন হওয়া উচিত, যা কোনো রাজনৈতিক দল বা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে তার সাংবিধানিক দূরত্ব এবং নিরপেক্ষতাকে স্পষ্ট করে।

রাষ্ট্রপতির শপথ সংক্রান্ত এই সাংবিধানিক প্রশ্নটি নতুন নয়। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির শপথের বৈধতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগ।

এখানে ব্যক্তির প্রশ্ন মুখ্য নয়; মুখ্য হলো সাংবিধানিক ক্ষমতার উৎস, প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য এবং সংশোধন ক্ষমতার সীমা।

রাষ্ট্রপতির শপথের কর্তৃপক্ষ পরিবর্তনের মাধ্যমে যদি বিচার বিভাগের সাংবিধানিক অবস্থান, রাষ্ট্রপতির প্রাতিষ্ঠানিক স্বাতন্ত্র্য এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যের কোনো মৌলিক উপাদান পরিবর্তিত হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই— সেই পরিবর্তন কি সংসদের সাংবিধানিক সংশোধন ক্ষমতার সীমার মধ্যে ছিল? আর যদি তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী কোনো সংশোধনীর মাধ্যমে একই ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করলেই কি তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংবিধানিকভাবে বৈধ হয়ে যায়?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে শুধু নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলে রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে; কিন্তু সাংবিধানিক প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে না। এই প্রশ্নের নিষ্পত্তি আদালত অথবা যথাযথ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় করতেই হবে। কারণ সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্ন অনিষ্পন্ন রেখে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে ধারাবাহিকভাবে শপথ অনুষ্ঠিত হতে থাকলে, তা একসময় বিচ্ছিন্ন আইনি বিতর্কের সীমা অতিক্রম করে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বৈধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার প্রশ্নে পরিণত হতে পারে। আর সাংবিধানিক বৈধতার সংকট যখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদকে স্পর্শ করে, তখন তার প্রভাব শুধু আদালতের নথিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক স্থিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা


  বিষয়:   রাষ্ট্রপতি  শপথ  সাংবিধান  ক্ষমতা  কাঠামো  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: