শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে মোরেলগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ

সারাদেশ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি চরম শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে। ১৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৬ জন শিক্ষক

2026-08-23T12:41:17+00:00
2026-08-23T12:41:17+00:00
 
  রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে মোরেলগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম 
মোরেলগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি : সময়ের আলো
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি চরম শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে। ১৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষক না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীরা এখন প্রাইভেটনির্ভর হয়ে পড়েছে। শুধু শিক্ষকই নয়, বিদ্যালয়টির সব কর্মচারীর পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৪ সালে জাতীয়করণকৃত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। সরেজমিনে জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে কোনো শিক্ষক না থাকায় বিজ্ঞান বিষয়ের ক্লাসগুলো প্রায় বন্ধ রয়েছে। এমনকি শিক্ষক সংকটের কারণে কমার্স বা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তিও নেওয়া হয় না, উল্টো ভর্তিচ্ছুদের নিরুৎসাহিত করা হয়।

বিদ্যালয়টিতে বাংলা (২টি), গণিত (২টি), জীববিজ্ঞান (১টি), সামাজিক বিজ্ঞান (৩টি) এবং ট্রেড বিষয়ের (২টি) পদ সম্পূর্ণ শূন্য রয়েছে। এছাড়া ইংরেজি ও ব্যবসায় শিক্ষায় ১ জন করে শিক্ষক থাকলেও বহু গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা থাকায় শিক্ষকদের বাড়তি ক্লাসের চাপ নিতে হচ্ছে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে সিলেবাস শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, উচ্চমান ও নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক, নিরাপত্তাকর্মী এবং চতুর্থ শ্রেণির একাধিক কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


ছাত্রী অভিভাবক শহিদুল ইসলাম ও মশিউর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ষোলোটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে প্রাইভেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তারা আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগের পর অন্তত দুই বছর যেন বদলি না করা হয়— এমন সরকারি নিয়ম চালু হলে এ ধরনের সংকট অনেকটাই নিরসন হতো।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, শিক্ষক ও কর্মচারীর শূন্য পদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে চাহিদামতো জনবল এখনো পাওয়া যায়নি।

ভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এইচ. এম. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক ও কর্মচারী সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হলেও সীমিত জনবল নিয়েই আমরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। সমস্যাটি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যেই অবহিত করা হয়েছে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   শিক্ষক সংকট  মোরেলগঞ্জ  সরকারি  বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: