স্ত্রী-মেয়েকে ধর্ষণের আলামত মেলেনি : ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক

রংপুর সংবাদদাতা

সারাদেশ

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহে ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো আলামত পাওয়া

2026-08-27T11:40:23+00:00
2026-08-27T11:44:19+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬,
১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
রংপুরে ৪ হত্যা
স্ত্রী-মেয়েকে ধর্ষণের আলামত মেলেনি : ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক
রংপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪০ এএম  আপডেট: ২৭.০৮.২০২৬ ১১:৪৪ এএম
সময়ের আলো কোলাজ। ছবি : সংগৃহীত
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহে ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত ও পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনা বিশ্লেষণের পর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।

বুধবার সাংবাদিকদের রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, দুই নারীকে পরীক্ষার সময় যৌন নির্যাতনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পাঠানো নমুনাতেও ধর্ষণের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।

সম্প্রতি চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত নিয়ে এক ডোমের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দুই নারী মরদেহে শুক্রাণু পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসক এ দাবি নাকচ করে বলেন, পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ ধরনের কোনো আলামতের উল্লেখ নেই। ময়নাতদন্তের ফল অনুযায়ী ধর্ষণের বিষয়টি বাদ দেওয়া যায়।

চারজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও চিকিৎসক জানান, সবার গলায় দাগ পাওয়া গেছে। এ থেকে চিকিৎসকেরা তাদের শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। কারও শরীরে কাটা বা ছেঁড়ার ক্ষত পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকজনের মাথা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

মরদেহের অবস্থা সম্পর্কে ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, মরদেহগুলো যখন ময়নাতদন্তের জন্য দেওয়া হয়, তখন সেগুলো ফুলে গিয়েছিল এবং পোকা ধরেছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় শরীরের স্বাভাবিক চেহারাতেও পরিবর্তন এসেছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহগুলোর মুখে পোড়া দাগ থাকার যে দাবি ছড়িয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে জানান তিনি। মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় পেরোলে ত্বকে স্বাভাবিক পরিবর্তন হয়ে তা কালচে হয়ে যেতে পারে বলে ব্যাখ্যা দেন চিকিৎসক।

উল্লেখ্য, রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী প্রায় তিন বছর ধরে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন।

গত শনিবার ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছিল, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছ থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির পরিদর্শক জিনাত আলী।


সময়ের আলো/কেএইচ


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: