ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে আবারও সংলাপ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। এ লক্ষ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি বৃহস্পতিবার তেহরান সফর করছেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যে ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী নতুন করে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
কাতার দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। জুনে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায়ও দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এবার তেহরান সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী উত্তেজনা কমানো, সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো। কিন্তু সংঘাতের কারণে সেখানে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কাতার প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা করতে চায়।
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যেও আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে প্রণালিটি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা কাতারের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বন্দর অবরোধের অবসানসহ বিভিন্ন শর্তের বিষয়ে অনড় অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে কাতারের নতুন এই মধ্যস্থতা উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সময়ের আলো/কেএইচ