চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে বাথরুমের ছাদে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলা কাটা মোবারককে’ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানায় পুলিশ।
এ সময় তার তিন সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয় মোবারক ও সহযগীদের। আদালত মোবারকের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় মোবারক ফলস ছাদ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেন। কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে। গ্রেফতার মোবারক হোসেন কারাগারে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত। তিনি রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যাসহ একাধিক হত্যা মামলার আসামি।
পুলিশ জানায়, গত কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। তবে মোবারক ওরফে ‘গলাকাটা মোবারক’ প্রতিবার ফসকে যায়। মঙ্গলবার রাতে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের একটি বাড়িতে মোবারকের অবস্থানের খবর পায় পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়।
বাড়ির লোহার দরজা ভেঙে ভেতরের একটি টয়লেটে প্রবেশ করতেই ফলস ছাদে অবস্থান শনাক্ত হয়। এসময় মোবারক পুলিশের ওপর গুলি চালাতে থাকেন। পরপর ছয়টি গুলি করেন। এসময় আহত হন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য। এক পর্যায়ে মোবারকের গুলি আটকে যায়। এর পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ওই বাড়ি থেকে মোবারকের তিন সহযোগীকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন, মো. রায়হান, মো. ফরিদ ও মো. নাছির। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি পিস্তল এবং পিস্তলের ২৩টি ও শটগানের চারটি গুলি।
অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ ছাড়াও ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান, তারেক আজিজের দেহরক্ষী পুলিশ কনস্টেবল মামুনুর রশিদ, ফটিকছড়ি থানার কনস্টেবল শাহ নেওয়াজ ও সাদ্দাম হোসেন আহত হন। তারা চিকিৎসা নিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, গত ২৯ জুলাই ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায় মোবারক ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রয়েছেন। এজন্য সেখানে পুলিশ কয়েক দফায় অভিযান চালায়। কিন্তু ধরা যায়নি। সর্বশেষ গত সোমবার ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোবারকের সহযোগী আরাফাত, মো. মুন্না, ইকবাল ও বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, মোবারক পাহাড়ে নিরাপদ মনে না করে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় তার পূর্বপরিচিত একটি বাসায় অবস্থান নেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মোবারক যে বাসায় অবস্থান নিয়েছিলেন সেখানে হানা দেয় পুলিশ। গত বুধবার ভোর রাত ৩টার দিকে পুলিশ বাসাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। কিন্তু বাসার দরজা ছিল লোহার তৈরি। বারবার পুলিশ বলার পরও দরজা খোলা হয়নি। দেড় ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা ডাকাডাকির পরও দরজা খুলেনি। পরে স্থানীয় লোকজনের
উপস্থিতিতে মোবারককে গ্রেফতার করা হয়।
তারেক আজিজ বলেন, গ্রেফতারের পর অস্ত্র লুট ও পুলিশের ওপর হামলার দুই মামলায় আদালতে মোবারকের রিমান্ড চাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার আদালত চার দিন করে মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সময়ের আলো/জোই