নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৯টাপর্যন্ত দেশটির আট জেলা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮২৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এর আগে, ৩৫৯ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চিতওয়ানে ১৩৭টি, নাওয়ালপরাসি ইস্টে ৮৭টি, ধাদিংয়ে ৩৩টি, গোরখায় ৩২টি, নুওয়াকোটে ২৮টি, তানাহুনে ২৮টি, রাসুয়ায় ১৭টি, নাওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ২৭টি মরদেহ পাওয়া গেছে।
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৪ জন, নেপাল পুলিশের ২৮ জন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্স নেপালের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন।
নিখোঁজদের বড় একটি অংশ পর্যটক। তাদের সংখ্যা ৫৯০ জন; এর মধ্যে ৪৭৬ জন বিদেশি এবং ১১৪ জন নেপালি পর্যটক।
বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন করে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সঙ্গেও কাজ করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। পাশাপাশি বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসাবশেষে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলো পরিষ্কারের কাজও চলছে।
বন্যার পানির স্রোত প্রথমে রাসুয়া ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। পরে ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী ব্যবস্থার নিম্নাঞ্চলে প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন জনবসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি করে।
নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/আতা