ভবিষ্যতে চাঁদের বুকে ও কক্ষপথে নভোচারী এবং বিভিন্ন দেশের গবেষকদের আনাগোনা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়ে মহাকাশযানের ভিড় তৈরি হবে। সে কথা মাথায় রেখে পৃথিবী থেকে চালিত দূরনিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংক্রিয় মহাকাশযানগুলোর সংঘর্ষ এড়াতে পৃথিবীর বিমানবন্দরের মতোই চাঁদের আকাশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তৈরি করেছেন মহাকাশ গবেষকেরা।
নাসার জনসন স্পেস সেন্টার, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয় ও পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় মহাকাশযানের নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি প্রাথমিক ফ্লাইট ম্যানুয়াল ও নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালার রূপরেখা তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘অ্যাক্টা অ্যাস্ট্রোনটিকা’য় ‘সিসলুনার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট: অরবিট মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড লোইটারিং ইন দ্য গেটওয়ে এনআরএইচও’ শিরোনামে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, নাসার পরিকল্পিত চাঁদের কক্ষপথের স্টেশন ‘গেটওয়ে’ মূলত 'নিয়ার রেক্টিলিনিয়ার হালো অরবিট' (NRHO) নামক একটি জটিল কক্ষপথে অবস্থান করবে। এখানে পৃথিবী ও চাঁদ—উভয়ের মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাব থাকায় সামান্য ন্যাভিগেশন ত্রুটিও যেকোনো মহাকাশযানের অবস্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এ ঝুঁকি সামাল দিতে বিমানের মতো নির্দিষ্ট স্থানে মহাকাশযানকে সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা বা 'লোইটারিং' করার কৌশলসহ বিভিন্ন দিক কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছেন গবেষকরা।
মহাকাশ গবেষক ডায়ান ডেভিসের ভাষ্যমতে, আগামী দুই দশকে চাঁদে স্থায়ী অবকাঠামো ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রমের সাফল্য কেবল শক্তিশালী রকেটের ওপর নয়, বরং সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপরও একইভাবে নির্ভর করবে। চাঁদে এখনো বাস্তবিক কোনো অবকাঠামোগত বিমানবন্দর নির্মিত না হলেও, পৃথিবীর মাটিতে বসেই সেই মহাকাশবন্দরের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার ব্লুপ্রিন্ট তৈরির কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
সময়ের আলো/টিকে