নেপালে ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের মূল কারণ ভূমিকম্প নয়, বরং তুষারধসের কারণে সৃষ্ট হিমবাহ ভাঙন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং উপগ্রহচিত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হিমালয়ের ল্যাংট্যাং লিরুঙ পর্বতশৃঙ্গের প্রায় ৫ হাজার ১২৭ মিটার উঁচুতে একটি হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে পড়ার কারণেই নেপালের ভোটেকোশী নদীতে এই দুর্যোগ নেমে আসে।
চীনা ভূতত্ত্ববিদ গুয়ো জাও চ্যাঙের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসা তুষার, কাদামাটি ও পাথরের প্রকাণ্ড স্রোতটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৬৫ ফুট (৫০ মিটার) গতিতে ধাবিত হয়েছিল। এই তীব্র গতির কারণে নদী অববাহিকার মানুষ সামলে ওঠার আগেই প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে যায়। ৫ হাজার ২০০ মিটার উঁচুতে ধসে পড়া সেই কাদা-পাথরের স্রোত পর্বতের ঢাল বেয়ে লিন্দেখোলা নদী হয়ে নেপাল-চীন সীমান্তের তিব্বতীয় গিরং বন্দরে আঘাত হানে এবং দু'কূল ছাপিয়ে ঘরবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেয়।
পরবর্তীকালে কাদা-পাথরের এই প্রলয়ঙ্করি প্রবাহ ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর খাত ধরে তীব্র বেগে তিমুরে, স্যাপ্রুবেসী ও হাকুবেসী পার হয়ে ৬৫ কিলোমিটার দূরে বেত্রীবতী ও ত্রিশূলী বাজারে আছড়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ জীবন বাঁচাতে ছোটাছুটি করার মুহূর্তেই খয়েরি রঙের কাদা ও পাথরের ঢল পুরো এলাকাকে গ্রাস করে নেয়। পরবর্তীতে দেবীঘাট পার হয়ে উৎসমুখ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে কোলতারপুরে এসে এই স্রোত অবশেষে ক্ষান্ত হয়।
নেপালের ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন’-এর তথ্যমতে, বিপুল পরিমাণ তুষারগলা পানি ও পাথর জমে গলচি এলাকায় মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে নদীর পানি ৯ মিটার বেড়ে যায়, যা আশপাশের সব জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয়ের হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাওয়ার কারণেই এমন আকস্মিক ও মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে।
সময়ের আলো/জেডি