একসময় চিঠির প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল বিস্ময়কর। যোগাযোগের এ মাধ্যম নিয়ে তাই মজার ঘটনাও কম নয়। এমন কিছু ঘটনা সম্পর্কে আজ জেনে নেওয়া যাক-
জানা যায়, ১৮৬০ সালের দিকে আমেরিকায় কেউ কেউ খামের বদলে সরাসরি নারকেলের খোসার ওপর ঠিকানা লিখে ডাকযোগে পাঠাতেন। এমনকি ডাকব্যবস্থা সেই অদ্ভুত ‘চিঠি’ গন্তব্যেও পৌঁছে দিত!
অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ডে এক কৃষক নাকি আলুর গায়ে ঠিকানা লিখে বন্ধুর কাছে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ডাকপিয়ন সেটিও পৌঁছে দিয়েছিল।
বেলজিয়ামে একবার ৩৭টি বিড়ালকে চিঠি বহনের পরীক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের গলায় ছোট ব্যাগ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল চিঠি পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তবে বিড়াল যে নিজের ইচ্ছামতো চলতেই বেশি পছন্দ করে, সেটাই হয়ত প্রমাণ হয়েছিল সেই পরীক্ষায়- অনেক বিড়ালই ঠিকমতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি!
চিঠির ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট চিঠির একটি মজার গল্প জড়িয়ে আছে ফরাসি ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগোর সঙ্গে। নিজের বইয়ের বিক্রি কেমন হচ্ছে, তা জানতে তিনি প্রকাশককে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যাতে ছিল শুধু একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন-‘?’। উত্তরে প্রকাশক পাঠিয়েছিলেন শুধু একটি বিস্ময়বোধক চিহ্ন-‘!’। অর্থাৎ, বইয়ের বিক্রি দারুণ চলছে! এই সংক্ষিপ্ত আদান-প্রদানকেই বিশ্বের সবচেয়ে ছোট চিঠির উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই উল্লেখ করা হয়।
প্রেমের সঙ্গেও চিঠির সম্পর্ক ছিল গভীর। এমনও গল্প আছে, ১৮৭০ সালে এক ফরাসি ব্যক্তি তার প্রেমিকাকে প্রায় ৭৪৭ মিটার দীর্ঘ একটি চিঠি লিখেছিলেন!
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্রের বহু কিশোরী অচেনা সৈন্যদের সঙ্গে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করত। সেই চিঠির সম্পর্কের কিছু গল্প পরে বিয়েতেও গড়িয়েছিল।
চিঠির ক্ষমতা আসলে সময় ও দূরত্ব পেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে সমুদ্র থেকে একটি বোতল উদ্ধার করা হয়। তার ভেতরে ছিল ১৩২ বছর আগের এক জার্মান নাবিকের পাঠানো বার্তা। শত বছরের বেশি সময় পেরিয়েও সেই চিঠি যেন অতীত থেকে বর্তমানের কাছে এসে পৌঁছেছিল।
চিঠি নিয়ে আরও একটি দারুণ ঘটনা হলো- ১৯৬৯ সালে মানুষ প্রথম চাঁদে পা রাখার ঐতিহাসিক অভিযানের সময়ও চিঠি ও ডাককে ঘিরে নানা স্মারক তৈরি হয়েছিল। মানুষের বার্তা পাঠানোর এই আকাঙ্ক্ষা পৃথিবীর সীমানা পেরিয়েও যেন থেমে থাকেনি।
সময়ের আলো/মহু