সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাতে লেখা চিঠির ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। এখন কয়েক সেকেন্ডেই পৃথিবীর অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায় সমস্ত খবর। তবু, চিঠির আবেগ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। জাপানের কিছু স্কুলে শিশুদের ভবিষ্যতের নিজের কাছে চিঠি লেখানো হয়, যেখানে তারা স্বপ্ন, আশা ও ইচ্ছের কথা লিখে রাখে। নির্দিষ্ট সময় পর সেই চিঠি খুলে তারা ফিরে যায় নিজের শৈশবের কাছে।
জাপানের কিছু স্কুলে এই বিশেষ কাজটি করানো হয়। চিঠিগুলোতে কেউ লেখে নিজের স্বপ্নের কথা, কেউ জানায় সে বড় হয়ে কী হতে চায়, আবার কেউ লিখে রাখে সেই সময়ের ভয়, আনন্দ, আশা ও ছোট ছোট ইচ্ছের কথা। এরপর চিঠিগুলো যত্ন করে সংরক্ষণ করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর, কখনো প্রায় ২০ বছর পরে, সেই চিঠি আবার খোলার ব্যবস্থা করা হয়।
এর উদ্দেশ্য শুধু পুরনো লেখা পড়া নয়। এই চিঠি মানুষকে নিজের অতীতের সঙ্গে আবার দেখা করায়। ছোটবেলায় যে মানুষটি ভবিষ্যৎ নিয়ে কত স্বপ্ন দেখেছিল, বহু বছর পর বড় হয়ে সেই মানুষটিই নিজের লেখা চিঠি পড়ে বুঝতে পারে- কতটা পথ সে পেরিয়েছে, কোন স্বপ্ন পূরণ হয়েছে কিংবা কোন স্বপ্ন এখনো তাকে ডাকছে।
জাপানে প্রতিবছর ২৩ জুলাই ‘লেটার রাইটিং ডে’ও পালন করা হয়। চিঠি লেখার এই চর্চা নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয়, দ্রুত যোগাযোগের যুগেও ধীরস্থির হয়ে নিজের অনুভূতি লিখে রাখার আলাদা মূল্য আছে।
আজ যে কথাগুলো লিখে রাখা হয়, বহু বছর পর সেগুলোই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি- এই স্মৃতি সঞ্চয় করাটা শিশুদের চিঠি লেখানোর অন্যতম উদ্দেশ্য।
আপনি চাইলেও আজ একটি চিঠি লিখে রাখতে পারেন- বন্ধুর জন্য, প্রিয় মানুষের জন্য, কিংবা এমন কারও জন্য, যার সঙ্গে আপনার এখনো দেখা হয়নি- ভবিষ্যতের আপনি! হয়ত ১০ বা ২০ বছর পর সেই চিঠি খুলে আপনি নিজেই অবাক হয়ে ভাববেন- একদিন এই মানুষটিই এত স্বপ্ন নিয়ে আমাকে লিখেছিল!
সময়ের আলো/মহু