প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ পিএম আপডেট: ০৭.০৯.২০২৬ ১২:০৯ এএম
বেহাল সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ। ছবি : সময়ের আলো বরিশালের গৌরনদীর গুরুত্বপূর্ণ দুইটি সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কাঁদা মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। তৈরি হয় খানা-খন্দ। চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে হাঁটার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘসময় সড়ক দুটির সংস্কার না হওয়ায় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ধানের চারা রোপন করে এক অভিনব প্রতীকী প্রতিবাদ করেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গৌরনদী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ হ্যালিপ্যাড সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ১.২৫ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে কাঁদা মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। ফলে এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল প্রায় পাঁচটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়াসহ স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শৌলকর গ্রামের সড়কটিরও একই অবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সড়ক দুটি বেহাল দশায় পড়ে থাকলেও তা সংস্কার বা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই। এই বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কাঁদা-পানি জমে থাকায় সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়াসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।
সড়ক দুইটির দুরবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাই উভয় এলাকার ভূক্তভোগীরা প্রতীকী প্রতিবাদের অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সড়কে জমে থাকা কাঁদামাটিতে ধানের চারা রোপণ করে তৈরি করেছেন ভিডিও। ভুক্তভোগীরা বোঝাতে চেয়েছেন, চলাচলের সড়ক দুইটি আর রাস্তা নেই, তা এখন ধানখেতে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে নই, সমস্যাটির সমাধান চাই। সড়ক দুটি দ্রুত সংস্কার হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমে আসবে। এসময় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তারা।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, বৃষ্টি কমার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিদর্শনে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে তাদের রির্পোটের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/এনএন