হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক এলাকা ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগত এই জলপথে নতুন একটি নৌ চলাচল করিডর চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে দেশটি।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই নিষিদ্ধ এলাকার ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের সীমারেখা হিসেবে তেহরান যে এলাকাকে চিহ্নিত করছে, সেখান থেকে অঞ্চলটি শুরু হয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে এবং পারস্য উপসাগরের কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
রেজায়ি বলেন, প্রণালি দিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ চলাচল করিডর চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারে প্রথমে একটি অস্থায়ী যৌথ করিডর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরে স্থায়ী করিডর ও প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি আলোচনা চলবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি জাহাজে হামলা চালায়। দু-দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই সাম্প্রতিক এই ঘোষণা এলো।
রোববার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের স্বার্থ বা নিরাপত্তায় ফের কোনো হামলা হলে তার জবাব হবে ‘আরও দ্রুত, আরও কঠোর ও আরও যন্ত্রণাদায়ক’।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
সময়ের আলো/জেডি