সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর আবার বদলি কার্যক্রম চালু করা হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক বদলি কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়ম ও জটিলতার বিষয় সামনে আসায় এটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ১৪ হাজারের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের বদলি স্থগিত থাকবে। নতুন শিক্ষকের নিয়োগ সম্পন্ন হলে আবার বদলি কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তবে তখন আগের নিয়মেই বদলি হবে কি না, সে বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, নতুন শিক্ষকরা যোগ দেওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে বদলির পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই এ বিষয়ে এখনই নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন নেই।
এর আগে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর ফল প্রকাশ করা হয় ২১ জানুয়ারি। পরে মৌখিক পরীক্ষা শেষে ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
এদিকে উপবৃত্তির বিষয়েও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার নজর রাখছে। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া মতামত অনুযায়ী, আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়া হলে তা আরও কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি উপবৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে।
প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূলধারায় আনার বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
সময়ের আলো/জেডি