২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দলকে নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তবে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আনচেলত্তির এই ভাবনার সঙ্গে একমত নন ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর দল নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরুর কথা বলেছিলেন আনচেলত্তি। সেই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলেও পরিবর্তনের আভাস মিলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সিলভা। রেডিও তুপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘৩১, ৩২ বা ৩৩ বছর বয়স হলেই কাউকে বাদ দেওয়া যায় না। আমি প্রায় ৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলেছি। কেউ যদি ভালো ফর্মে থাকে, তাহলে শুধু বয়সের কারণে তাকে বাদ দেওয়া ঠিক নয়।’
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সিলভা। জাতীয় দলের হয়ে ১১৩ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডারের মতে, ব্রাজিলের মতো দলের পুনর্গঠন হঠাৎ করে না করে ধাপে ধাপে করা উচিত।
‘জাতীয় দলের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন ধীরে ধীরে করতে হয়। চাইলেই একসঙ্গে সবাইকে বাদ দিয়ে নতুন খেলোয়াড় নিয়ে আসা যায় না। ধাপে ধাপে এগোতে হবে। ব্রাজিলের জাতীয় দলের খেলোয়াড় হওয়া অনেক কঠিন। এটা ক্লাব ফুটবলের মতো নয়’, বলেন সিলভা।
আনচেলত্তির ইউরোপীয় অভিজ্ঞতার সঙ্গেও বিষয়টির তুলনা করেছেন তিনি। সিলভার মতে, ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে যেভাবে দ্রুত পরিবর্তন আনা যায়, জাতীয় দলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তেমন নয়।
‘আনচেলত্তি ইউরোপিয়ান ফুটবল থেকে এসেছেন। সেখানে হয়তো পরিবর্তন আনা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু এখানে বিষয়টা সেভাবে চলে না। তাকে এখানকার বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং ফল দিতে হবে। পাশাপাশি দলকে ভালো ফুটবলও খেলাতে হবে’, বলেন তিনি।
আনচেলত্তির পরিকল্পনা নিজের পছন্দ নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন সিলভা। তবে ব্রাজিলের কোচ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন আনচেলত্তির হাতেই, সেটিও মেনে নিয়েছেন তিনি।
সিলভার ভাষায়, ‘আমি এ ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে নই। আনচেলত্তির পরিকল্পনার সঙ্গে আমি একমত নই। তবে দায়িত্ব তো এখন তার হাতেই।’
ব্রাজিলের পরবর্তী প্রজন্মের দল গড়তে গিয়ে আনচেলত্তি কতটা পরিবর্তনের পথে হাঁটেন, আর অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কতটা ধরে রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সময়ের আলো/টিকে