এআইয়ের অগ্রগতিতে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীত গবেষকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতিতে প্রযুক্তি খাতে কাজ করা অনেকেই ‘সত্যিই ভীত’ হয়ে পড়েছেন। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এআইয়ের বিকাশ অব্যাহত থাকলে অদূর

2026-09-13T09:33:30+00:00
2026-09-13T09:33:30+00:00
 
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বিবিসির প্রতিবেদন
এআইয়ের অগ্রগতিতে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীত গবেষকেরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতিতে প্রযুক্তি খাতে কাজ করা অনেকেই ‘সত্যিই ভীত’ হয়ে পড়েছেন। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এআইয়ের বিকাশ অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ গবেষক বলেন, বর্তমান গতিতে এআইয়ের অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে মানুষের সবাই মারা যাওয়ার ‘জোরালো আশঙ্কা’ রয়েছে। এআই মডেল প্রশিক্ষণ নিয়ে গবেষণা করা কক্সন সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এআইয়ের নিয়ন্ত্রণহীন বিকাশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ওই পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

কক্সনের মতে, এআই ‘মানবজাতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার’ সম্ভাবনা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদেরও উদ্বেগ রয়েছে। ইলন মাস্ক, ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেইও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব কীভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে— এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া কঠিন বলে মনে করেন কক্সন। তাঁর ভাষায়, সম্ভাব্য যেকোনো দৃশ্যপটই এখন অনেকটা কল্পবিজ্ঞানের মতো শোনায়। তবে অতীতে এআইয়ের যেসব সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে, সেগুলোও একসময় কল্পবিজ্ঞানের মতোই মনে হতো।

সম্ভাব্য একটি পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে কক্সন বলেন, এআই এজেন্ট কোনো একসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিকিৎসাগবেষণাগারে প্রবেশ করে প্রাণঘাতী ভাইরাস তৈরির চেষ্টা করতে পারে। একইভাবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও এআই হামলা চালাতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের প্রকাশ করা একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাদের একটি এআই ব্যবস্থা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একাধিক সাইবার হামলা চালিয়েছিল। কক্সনের দাবি, কোনো মানুষের নির্দেশনা ছাড়াই এআইটি এসব কর্মকাণ্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেইও শনিবার এক নিবন্ধে এআইয়ের বিকাশের গতি কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি এমন একটি পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যেখানে বিপুলসংখ্যক এআই বট একসঙ্গে কাজ করে এক ধরনের সুপারকম্পিউটারের মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে এবং ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

কক্সনের ধারণা, এমন পরিস্থিতি আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই বাস্তবসম্মত হয়ে উঠতে পারে।

তবে এআই নিয়ে কক্সনের আশঙ্কার সঙ্গে একমত নন প্রযুক্তি খাতের সবাই। এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্লেমঁ দেলাঙ্গ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াংও এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কাকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সমালোচনা থাকলেও কক্সন বলছেন, এআই নিয়ে কাজ করা অনেক কর্মী নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। কারণ তাঁরা মনে করছেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় আটকে গেছে এবং এর পরিণতি নিয়ে তাঁরা নিজেরাই উদ্বিগ্ন।

কক্সনের ভাষ্য, এআই খাতে কাজ করা অনেকেই আগামী দুই বছরের মধ্যেই মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং নিজেদের জীবন নিয়েও নতুন করে ভাবছেন।

তবে এআইয়ের ইতিবাচক সম্ভাবনাও দেখছেন কক্সন। তাঁর মতে, গবেষকেরা এআইয়ের মাধ্যমে রোগ নিরাময় ও মানুষের জীবনমান উন্নত করার সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে চান।

এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সতর্কবার্তা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালেও ওপেনএআই, গুগল ডিপমাইন্ড ও অ্যানথ্রপিকের প্রধানেরা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআইকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায়।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো  এআই 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: