ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ায় জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। গত এক সপ্তাহেই বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলেছে, ইয়েমেনে দ্রুত অবনতিশীল বাস্তুচ্যুতি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, পরিস্থিতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় আরও খারাপ হচ্ছে।
ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করা হুথিরা গত সপ্তাহে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। ধারাবাহিক কয়েকটি যুদ্ধে তারা সাফল্য পেয়েছে। এসব সংঘাতে এখন পর্যন্ত শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন।
আইওএম জানায়, জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধ ঘোষণার পর থেকে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ ঘর ছেড়েছে। এর মধ্যে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ শুধু সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, পশ্চিম উপকূল ও তাইজ এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাইজে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। শুধু এই প্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
বাস্তুচ্যুত মানুষের অনেকেই এর আগেও ইয়েমেনের দীর্ঘ ১২ বছরের সংঘাতের সময় একাধিকবার ঘর ছেড়েছিলেন। আইওএম বলছে, এসব মানুষ এখন চরম ক্লান্ত ও নিঃস্ব। অনেক পরিবার ঘর ছাড়ার সময় সঙ্গে প্রয়োজনীয় কোনো সামগ্রীই নিতে পারেনি।
মাঠপর্যায়ে আইওএমের দলগুলো বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে আশ্রয়ের সামগ্রী ও স্বাস্থ্যবিধি–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ করছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তার পরিমাণ অনেক কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইওএম সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতির অবনতি প্রতিদিনই বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচ