মাগুরার শালিখায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত সুলতান মিয়া (৩০) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর জেরে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শালিখা উপজেলার বলাই নাঘোশা গ্রামের জাফর মোল্লা এবং সামসু মেম্বারের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরেই সম্প্রতি জাফর মোল্লার দুটি সেচ পাম্প চুরির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত রোববার বিকেলে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
পূর্ববিরোধ ও চুরির ঘটনার জেরে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শালিখার সিংড়া বাজারের মোটর শ্রমিক অফিসের সামনে দুই পক্ষের সমর্থকরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলা এই হামলা-পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় সুলতান মিয়াকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তার মৃত্যু হয়।
সুলতান মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে বলাই নাঘোশা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা নতুন করে সংঘাত এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
এ বিষয়ে শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সুলতান মিয়ার মৃত্যুর পর এলাকায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই