গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পরী রানী হাজরা (৬৫) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, কানের ও নাকের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় ইউনিয়নের বেদভিটা গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত পরী ওই গ্রামের তুলসী হাজরার স্ত্রী।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে পরী নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। ঘটনার দিন সোমবার সকালে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে অবস্থিত পাটখেত থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। পরে গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে নিহতের ছেলে মৃণাল হাজরা পাটখেতের ভেতরে তার মায়ের গলিত মরদেহ দেখতে পান।
এ বিষয়ে নিহতের ছেলে মৃণাল হাজরা ক্ষোভ ও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমার মা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা অনেক খুঁজেছি। সোমবার সকালে পাটখেত থেকে দুর্গন্ধ আসায় সেখানে গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখতে পাই। দুর্বৃত্তরা কানের ও নাকের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য আমার মাকে হত্যা করে মরদেহ এখানে ফেলে রেখে গেছে বলে আমরা সন্দেহ করছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই