মধ্য অথবা ভোররাতে বসতবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের কোনো সমস্যায় পড়েছেন তো মরেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) কাছে অভিযোগ করেও পাবেন না তাৎক্ষণিক কোনো সেবা। অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে দীর্ঘক্ষণ। কারণ একজন সেবা গ্রহীতার অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি প্রতিকার পাওয়ার তেমন কোনো ব্যবস্থাই নেই নেসকো কর্তৃপক্ষের কাছে। পাবনা সদর পৌর এলাকার জরুরি সেবা প্রদানের জন্য তাদের কাছে রয়েছে মাত্র একটি পরিবহন। আর প্রতিদিন যে পরিমাণ অভিযোগ জমা হয় সেসব ঠিক করে আপনার কাছে পৌঁছাতে সারাদিন লাগিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুতের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে আরও দ্রুত সেবা প্রত্যাশা সেবা গ্রহীতাদের।
পাবনায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্ব পালন করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নেসকো। সব ধরনের চার্জ কর্তনে দেরি না হলেও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে খুবই ধীর। অভিযোগকারীর সব তথ্য লিখে নিলেও সমাধান তাৎক্ষণিক পাওয়া যাবে না।
পাবনা সদর পৌর এলাকার শালগাড়িয়া মহল্লার ভুক্তভোগী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত যতবারই বিদ্যুতের কোনো সমস্যায় পড়েছি। বিদ্যুৎ অফিসের ল্যান্ড ফোনে অথবা সরাসরি অফিসে গিয়ে অভিযোগ দিয়েছি। সম্প্রতি মধ্যরাতে নিজ বাড়ির বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনার পরে নেসকোর অভিযোগ গ্রহণকারীরকে বিদ্যুতের সমস্যার কথা জানানো হয়। রাতের অভিযোগের আলোকে সেবা পেয়েছি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। বিভিন্ন স্থানে লাইন মেরামত করে আসার কারণে দেরি হয়। লাইন সারতে আসা কর্মীদের কাছে জানতে পারলাম মাত্র একটি গাড়ি দিয়ে পুরো পৌর এলাকায় সেবা দিচ্ছেন তারা। পর্যায়ক্রমে কাজ করে আসতে সময় লেগে যায়। কর্তৃপক্ষ যদি লোকবল ও গাড়ির ব্যবস্থা করে তখন সময় কম লাগবে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ সমস্যায় চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে সাধারণ গ্রাহকরা। সারাদিন যাওয়া-আসার মধ্যেই থাকে বিদ্যুৎ। দিনের আলোয় সেটা মানিয়ে নিয়ে সময়টা পার হয়। কিন্তু সারা দিনের কাজকর্ম শেষে রাতে বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালিয়ে একটু শান্তিতে বিশ্রাম গ্রহণ করে থাকেন সবাই। তবে মধ্যরাতে যেকোনো কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়েছেন তো মরেছেন। জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানেকে জানানোর পরও দ্রুত সমস্যা সমাধান পাবেন না। কারণ রাত্রিকালীন এই জরুরি সেবায় এখনও পিছিয়ে পাবনা নেসকো বিদ্যুৎ বিভাগ। কারণ রাতের সেবা বন্ধ থাকে বেশিরভাগ সময়।
ভুক্তভোগী পাবনা পৌর এলাকার শালগাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সেবার মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, গণমাধ্যম কর্মী, ফায়ার সার্ভিসের কথা উল্লেখ করা গেলেও জরুরি সেবার মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগকে বলা যাবে না। কারণ ২৪ ঘণ্টার কোনো সেবা তারা গ্রাহকদের জন্য প্রদান করে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বহুবার পড়েছি সেটি প্রথম রাত, মধ্যরাত অথবা ভোররাত অভিযোগ করেও সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এমনকি সকালে দেওয়া অভিযোগ পরের দিন রাতে এসে সমাধান করেছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছাড়াই সব কাজকর্ম করতে হয়েছে। তবে বিদ্যুৎচালিত সরঞ্জামাদি না চলায় ক্ষতির মুখে পড়ছে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে জরিমানা গুনতে হয় সাধারণ গ্রাহকদের। তবে জরুরি সেবা প্রদান না করায় এই প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসবে কে। তাই বিদ্যুতের সাধারণ ভোক্তা হিসেবে সরকার ও কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ আবেদন থাকবে জরুরি সেবার এই প্রতিষ্ঠানকে সাধারণ গ্রাহকদের সেবা প্রদানে শতভাগ নিশ্চিত করার। বিদ্যুতের বিল যদি বাড়তে পারে অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল, প্রিপেইড মিটার স্থাপন করতে পারে। তবে সাধারণ গ্রাহকরা ২৪ ঘণ্টার সেবা প্রদান থেকে বঞ্চিত হবে কেন? গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়ার পরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে প্রতিষ্ঠানকে।
পাবনা নেসকোর ডিভিশন-২-এর পাবনা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের সেবা প্রদানের একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া আছে। গ্রাহকের অভিযোগের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা হয়। স্বাভাবিক অভিযোগের চেয়ে অধিক অভিযোগ জমা হলে তখন আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়। পরিবহন একটি এই তথ্যটি সঠিক নয়। একাধিক পরিবহন রয়েছে আমাদের। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ বেশি থাকায় সময় লেগে যায়। তবে লোকবল সংকট রয়েছে। চেষ্টা করছি সবকিছু কাটিয়ে ওঠার। আশা করছি দ্রুতই সেবার মান আরও সুন্দর ও বৃদ্ধি পাবে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া আইন মেনে চলার চেষ্টা করছে সাধারণ গ্রাহকরা। তাই বিদ্যুতের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ সেবার বিষয়টি সংস্কারসহ জরুরি সেবার সঠিক ব্যবহার দেখতে চান ভুক্তভোগী।
সময়ের আলো/আতা