অধিকৃত পশ্চিম তীরে রোববার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এক সন্দেহভাজন ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে এক ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনি গাড়িচালককে গুলি করে হত্যা করেছে। সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ব্যক্তি তাদের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রামাল্লার কাছে ইসরায়েলি বসতি নেভে তজুফের কাছে একটি ঝরনার পাশে জড়ো হওয়া ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে একটি গাড়ি থেকে গুলি চালানো হয়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসাকর্মীরা একটি গাড়ির ভেতরে গুরুতর গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, কয়েক ঘণ্টা পর রামাল্লার একটি হাসপাতালে ওই বন্দুকধারীকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর পশ্চিম তীরের আরও উত্তরে গানিম বসতির কাছে এক ফিলিস্তিনি গাড়িচালক ইসরায়েলি সেনাদের ওপর গাড়ি তুলে হামলার চেষ্টা করেন বলে দাবি করে সেনাবাহিনী। সেনারা তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় কোনো ইসরায়েলি সেনা আহত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনীর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ইহুদিদের পবিত্র ধর্মীয় দিবস ইয়োম কিপ্পুরের আগের দিন ঘটে যাওয়া এই দুটি প্রাণঘাতী ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তিনি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো, গ্রেফতার অভিযান এবং আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এই হামলার প্রশংসা করলেও এর দায় স্বীকার করেনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলা এবং পরবর্তী গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে। এতে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা বাড়ার পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক অভিযান এবং ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে ফিলিস্তিনিদের হামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ