ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধচলাকালীন অনুষ্ঠিত রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতাসীন দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, দলটি ভোটে প্রায় ৫৮ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে এবং একক আসনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছে। ফলে ৪৫০ আসনের রাষ্ট্রীয় দুমায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে দলটির।
শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিন দিন ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ভোট পড়েছে ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এবার রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, দলীয় তালিকার ৫৮ শতাংশের বেশি কেন্দ্রের হিসাব পাওয়া পর্যন্ত ইউনাইটেড রাশিয়া প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দলটি ২২৫টি একক আসনের বেশিরভাগেও এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, নিউ পিপল এবং এ জাস্ট রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দলও পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার পথে রয়েছে।
রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের অংশ এবং ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়া ক্রিমিয়াতেও হয়েছে ভোট। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো এসব অঞ্চলের ওপর রাশিয়ার দাবি ও সেখানে ভোট আয়োজনকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নির্বাচনে পুতিনবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী অনেক কণ্ঠই সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। যুদ্ধবিরোধী ইয়াব্লোকো পার্টিকে আগস্টে দেশব্যাপী দলীয় তালিকা থেকে সরিয়ে দেয় রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট। বিভিন্ন বিরোধী রাজনীতিককে কারাগারে পাঠানো, নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া কিংবা দেশ ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটেছে।
ভোটকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। ইয়াব্লোকো ও কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে কিছু পর্যবেক্ষককে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। মস্কোয় বৈদ্যুতিক ভোটিং ব্যবস্থায় সাইবার হামলা ও কারিগরি সমস্যার কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব হামলার মধ্যেও ভোট কার্যক্রম সচল ছিল।
রয়টার্স জানিয়েছে, বিদেশে থাকা অনেক রুশ নাগরিক ভোট দেওয়াকে পুতিন ও ইউক্রেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতীকী অবস্থান হিসেবে দেখেছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী প্রার্থীদের ব্যাপকভাবে বাদ দেওয়ার কারণে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ভোটের পূর্ণাঙ্গ ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী, ইউনাইটেড রাশিয়ার পার্লামেন্টে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পথ অনেকটাই পরিষ্কার বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
সময়ের আলো/জেডি