রাতের নীরবতা চিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে আবারও ঝরল প্রাণ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বারৈয়াঢালা এলাকার হাক্কানি ফিলিং স্টেশনের সামনে ইন্টারনেট লাইন মেরামতের কাজ করার সময় বেপরোয়া গতির বালুবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় বিটিসিএলের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিটিসিএলের কাজে ব্যবহৃত মিনিট্রাকটির চালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের নিস্তব্ধ সময়ে মহাসড়কের পাশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বিটিসিএলের ইন্টারনেট সংযোগের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চালাচ্ছিলেন কর্মীরা। ঠিক ওই মুহূর্তে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৩১৯৫ নম্বরের একটি বেপরোয়া গতির বালুবোঝাই ট্রাক আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা অসাবধানতাবশত সেখানে দাঁড়ানো শ্রমিক ও মিনিট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। আকস্মিক এই আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে কর্মস্থলটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়।
ঘাতক ট্রাকের ধাক্কায় মাথায় তীব্র আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বিটিসিএল শ্রমিক মো. ইমরান (২৮)। তার বাড়ি বগুড়ার কালাহু থানার দক্ষিণ জামগ্রাম এলাকায়, বাবার নাম নাছির উদ্দিন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মিনিট্রাকচালক মো. জাকির হোসেন (৫০)। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিরা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জিয়া উদ্দিন ভূইয়া জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঘাতক যানবাহন শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। তবে গভীর রাতে মহাসড়কে এ ধরনের কারিগরি কাজ করার সময় পর্যাপ্ত সিগন্যালিং, লাইটিং বা দৃশ্যমান নিরাপত্তা বেষ্টনী যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। ইউটিলিটি কাজের ক্ষেত্রে হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ও কড়াকড়ি নিরাপত্তা নির্দেশিকা না মানলে এ ধরনের ট্রাজেডি রোধ করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের আলো/জোই