শিগগিরই উত্তরপ্রদেশকে ৪ ভাগে ভাগ করা হবে বলে দাবি করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর। তিনি দাবি করেছেন, উত্তরপ্রদেশ রাজ্য ভেঙে ‘পূর্বাঞ্চল’, ‘মধ্যাঞ্চল’, ‘বুন্দেলখণ্ড’ ও ‘হরিত প্রদেশ’ নামে চারটি অংশ হবে। এমনকি পূর্বাঞ্চল আলাদা রাজ্য হলে সেখানকার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী রাজভর সম্প্রদায়ের কেউ হবেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আম্বেদকরনগর জেলায় এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা জানান তিনি।
বক্তব্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ‘কথোপকথনের’ কথা তুলে ধরেন রাজভর। তার দাবি, জাতিভিত্তিক জনগণনা শেষ হওয়ার পর উত্তরপ্রদেশ ভাগ করা হতে পারে বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন মোদি।
রাজভর বলেন, ‘জাতিভিত্তিক জনগণনা শেষ হয়ে গেলে রাজ্য ভাগ করতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। জনগণনা শেষ হওয়ার পরই আমরা রাজ্য ভাগ করব। দেশের প্রধানমন্ত্রী আমাকে এ কথাই বলেছেন।’
উত্তরপ্রদেশে রাজভরের দল ভারতীয় সমাজ পার্টি (এসবিএসপি) বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছে। রাজভর আরও বলেন, ‘যেদিন আলাদা পূর্বাঞ্চল রাজ্য গঠিত হবে, সেদিন প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যদি কেউ হন, তাহলে রাজভর সম্প্রদায়ের একজনই পূর্বাঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’
চারটি সম্ভাব্য রাজ্যের নামও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, উত্তরপ্রদেশ ভাগ হলে গঠিত হবে- পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড ও হরিত প্রদেশ। পূর্বাঞ্চলে রাজভর সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বেশি ভোট রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজভরের এই বক্তব্য উত্তরপ্রদেশ ভাগের পুরনো দাবিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে রাজ্যটিকে ভাগ করার দাবি উঠেছে।
৪০৩ আসনের উত্তরপ্রদেশকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সাধারণত চারটি অঞ্চলে ভাগ করে দেখা হয়- পশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড ও পূর্বাঞ্চল। রাজ্যের রাজধানী থেকে দূরত্ব এবং অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে আঞ্চলিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে বুন্দেলখণ্ড ও পূর্বাঞ্চলকে আলাদা রাজ্য করার দাবি জানিয়ে আসছে।
এ নিয়ে ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) সরকার উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় রাজ্যটিকে ৪ ভাগে ভাগ করার একটি প্রস্তাব পাস করেছিল। তবে, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় সেই প্রস্তাব আর বাস্তবায়িত হয়নি।
এর আগে, ২০০০ সালে উত্তরপ্রদেশ থেকে হিমালয়সংলগ্ন একটি বড় অংশ আলাদা করে উত্তরাখণ্ড রাজ্য গঠিত হয়। এখন ভারতের সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যকে আরও ছোট কয়েকটি রাজ্যে ভাগ করার আলোচনা আবারও সামনে এসেছে। তবে, কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সময়ের আলো/মহু